আর পরা হবে না লাল-সবুজ জার্সি! জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে কেন মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দিলেন সিআরসেভেন?

বিশ্ব ফুটবলে ঘটল এক বিরাট মহাজাগতিক অঘটন। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) আর কোনোদিন পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন না! জাতীয় দলের প্রধান কোচের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্য এবং পরবর্তীতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (PFF) তাঁর পাশে না দাঁড়ানোর প্রতিবাদেই আচমকা জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপহার দেওয়া পর্তুগিজ রাজপুত্রের এমন আকস্মিক ও বিতর্কিত প্রস্থানে এখন স্তব্ধ সমগ্র ফুটবল বিশ্ব।
হেড কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও ফেডারেশনের বিমুখতা
জাতীয় দলের প্রধান কোচের সঙ্গে রোনাল্ডোর দূরত্ব ইদানীং বেশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছিল। একাধিকবার স্ট্র্যাটেজি ও একাদশ নির্বাচন নিয়ে কোচের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধে জড়ান তিনি। আশা ছিল, দেশের হয়ে তাঁর বিপুল অবদান বিবেচনা করে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন হয়তো অধিনায়কের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু শীর্ষ কর্তাদের থেকেও আশানুরূপ সমর্থন না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে জাতীয় দলের বুট জোড়া চিরতরে তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন সিআরসেভেন।
১. ২০১৬-র ইউরো জয়: হাঁটুতে আঘাত, কিন্তু হৃদয়ে নেতৃত্ব!
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক মেগা শিরোপা এসেছিল রোনাল্ডোর হাত ধরেই। ফ্রান্সের মাটিতে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০১৬ (Euro 2016) ফাইনালে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল পর্তুগাল। অথচ সেই ফাইনালের প্রথমার্ধেই হাঁটুর মারাত্মক চোটের কারণে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন রোনাল্ডো। কিন্তু মাঠ ছাড়লেও সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে প্রধান শিক্ষকের মতো পুরো দলকে উদ্বুদ্ধ করে গিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে সেই রূপকথার ইউরো জয় আজও বিশ্ব ফুটবলের সেরা দৃশ্য হয়ে রয়েছে।
২. স্পেনের বিরুদ্ধে অতিমানবীয় হ্যাটট্রিক ও ৮০ গজের ফ্রি-কিক!
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে বিশ্ববাসী দেখেছিল রোনাল্ডোর একক ক্ষমতার এক অনন্য তাণ্ডব। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে যখন নিশ্চিত পরাজয়ের মুখোমুখি পর্তুগাল, ঠিক তখনই ৮৮ মিনিটের মাথায় এক অলৌকিক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রোনাল্ডো। ম্যাচটি ৩-৩ ড্র করে একক দক্ষতায় দেশের হার বাঁচিয়েছিলেন তিনি।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ ও ফেডারেশনের ভেতরের এই অপ্রত্যাশিত সংঘাতের জেরে রোনাল্ডোর বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের এমন নাটকীয় সমাপ্তি পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।