‘দেশ আমি দেখছি, আপনি বিশ্রাম নিন!’ মুম্বাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি শারদ পাওয়ারকে ফোন মোদীর, হঠাৎ কী হলো বর্ষীয়ান নেতার?

বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ তথা ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি-এসপি) প্রধান শারদ পাওয়ারের শরীর নিয়ে ফের উদ্বেগের মেঘ। বুধবার পুণের রুবি হল ক্লিনিক থেকে ছাড়া পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তাঁকে দ্রুত মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়েছে।

এদিকে পাওয়ারের শারীরিক অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরই বুধবার সকালে তাঁকে সরাসরি ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রবীণ এই জননেতার স্বাস্থ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নেন।

মোদীর সঙ্গে কথোপকথন ও আবেগঘন মুহূর্ত

এনসিপি প্রধানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভিট্টল মানিয়ার সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও পাওয়ারের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী রসিকতা ও আশ্বাসের সুরে শারদ পাওয়ারকে বলেন, “সুপ্রিয়া সুলে এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আমরাও দেশের দায়িত্ব নিতে তৈরি আছি। আপনি দেশ নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না, শুধু নিজের শরীরের যত্ন নিন।”

প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় ধন্যবাদ জানিয়ে শারদ পাওয়ারও হেসে উত্তর দেন, “আপনি যখন আছেন, তখন দেশ নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তাই নেই। আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান।”

সুপ্রিয়া সুলের বার্তা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা

বুধবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর হঠাৎ কাশি ও বুকে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি পাওয়ারকে মুম্বাই নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মেয়ে তথা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে লেখেন— “আমরা আরও কিছু জরুরি শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাবাকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করাচ্ছি। আপনাদের ভালোবাসা, উদ্বেগ এবং শুভকামনার জন্য সকলকে অশেষ ধন্যবাদ।”

পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন শারদ পাওয়ার। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২রা নভেম্বর কাশি এবং প্লিউরিটিক পেইন (বুকে তীব্র ব্যথা) নিয়ে পুণের রুবি হল ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন ৮৫ ছুঁইছুঁই এই রাজনীতিবিদ। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পেয়ে বাড়ি ফিরলেও শারীরিক অস্বস্তি না কমায় শেষ পর্যন্ত আবার তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হতে হলো। বর্ষীয়ান এই নেতার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে প্রার্থনা করছেন তাঁর সমর্থকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *