কলকাতা পুরনিগম নির্বাচন ঘিরে হাইকোর্টে মেগা শোরগোল! সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল ডিভিশন বেঞ্চ

কলকাতা পুরনিগম (KMC) নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় এক বড়সড় আইনি মোড় নিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার মধ্যে এবার রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা ও পদক্ষেপের যুক্তি নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তুলে দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানিমার্ফৎ আদালত কড়া ভাষায় জানতে চায়— “নিয়োগকর্তাকে কর্মচারী কীভাবে প্রস্তাব মানতে বাধ্য করতে পারে?”
ডিভিশন বেঞ্চের এই পর্যবেক্ষণের পর মামলা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ বহাল রাখা হয়েছে, যা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের জন্য এক বিরাট সাময়িক ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা:
ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারী। কিন্তু সেই সময় সিঙ্গেল বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি।
সিঙ্গেল বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পরবর্তীতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দরজায় কড়া নাড়া হয়।
আদালতের ঘরে জোরালো প্রশ্ন ও সওয়াল-জবাব:
এদিন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলাকালীন পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলী ও সরকারি কর্মচারীদের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক এখতিয়ার নিয়ে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে।
জনপ্রতিনিধিহীন পুরসভায় একজন সরকারি কর্মচারী বা প্রশাসক কীভাবে পুরো শহরের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো বা পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করে রাজ্যকে তা মেনে নিতে বাধ্য করতে পারেন— সেই আইনি দিকটিই কাঠগড়ায় দাঁড় করায় আদালত। দুই পক্ষের জোরালো যুক্তিতর্ক শোনার পরই ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে আপাতত মামলাটি বিবেচনাধীন এবং রায়ের আগে নতুন কোনো নির্বাচনী পদক্ষেপ করা যাবে না।
হাইকোর্টের এই মেগা রায়ের পর কলকাতা পুরভোটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
আপনি কি এই সংক্রান্ত অন্যান্য কোনো আইনি মতামত বা দলীয় প্রতিক্রিয়া এর সাথে যুক্ত করতে চান?