“এসি রুমে বসে কাজ চলবে না!” দায়িত্বে গাফিলতি দেখলেই সোজা বরখাস্তের হুমকি, বিডিওদের ওপর চরম খড়্গহস্ত মুখ্যমন্ত্রী!

মাঠপর্যায়ে কাজ তদারকি না করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে ফাইল ওয়ার্ক সারার প্রবণতা আর বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। বুধবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের এক উচ্চপর্যায় বৈঠকে রাজ্য প্রশাসন এবং পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্মাণ সহায়ক থেকে শুরু করে ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)—কাজে অবহেলা করলে যে সরাসরি বেতন বন্ধ বা বরখাস্তের মতো কঠিন শাস্তি পেতে হবে, তা এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মাঠের কাজ ফেলে এসি রুমে বন্দি থাকার অভিযোগ!
প্রশাসন সূত্রে খবর, পঞ্চায়েত দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশ মাঠস্তরে কাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান যে, বহু বিডিও এবং গ্রামীণ কর্মীরা নিয়মিত ফিল্ডে গিয়ে কাজের গুণমান ও অগ্রগতি খতিয়ে দেখছেন না। নিয়মমাফিক প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে এসি রুমে বসে কাজ সারার এই দীর্ঘদিনের অভিযোগ এদিন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে আনা হয়।
এই খবর শোনার পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ পরিকাঠামো ও অর্থনীতির মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে এমন ঢিলেঢালা মনোভাব যে সরকার এক মুহূর্তও সহ্য করবে না, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। নবান্নে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, দপ্তরের সচিব পি উল্গানাথন সহ রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও বিডিও-রা।
‘ভিবি জি-রাম জি’ প্রকল্প ও বিডিও-দের জন্য ডেডলাইন
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল কেন্দ্রের নতুন ‘ভিবি জি-রাম জি’ (VB-Ram Ji) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা। বিগত মনরেগা প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে এই নতুন প্রকল্পে রাস্তা ও পুকুর খননের পাশাপাশি স্থানীয় থানা সংস্কার এবং অঙ্গনওয়াড়ি বা আইসিডিএস কেন্দ্র নির্মাণের মতো টেকসই স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরির কাজ যুক্ত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন রাজ্যে ২২ লক্ষ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং গোটা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যকে শীর্ষস্থানে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া ও মুর্শিদাবাদের মতো বেশ কিছু জেলায় কাজের গতি মন্থর থাকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
-
ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেডলাইন: বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিডিও-দের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজের গতি সন্তোষজনক না হলে তাঁদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
জেলাশাসকদের কড়া নজরদারির নির্দেশ
মুখ্যসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী, ব্লকস্তরে বিডিও-রা কতটা ফিল্ডে নামছেন এবং প্রকল্পের গতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার বিস্তারিত কাজের খতিয়ান এবার নিয়মিত নবান্নে পাঠাতে হবে।
প্রশাসনের শীর্ষমহল থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে—যাঁরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করবেন, তাঁদের যথাযথ পুরস্কৃত করা হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই ধমক ও কড়া নির্দেশের পর থেকেই ব্লক ও জেলা প্রশাসনের অন্দরে চরম হুলুস্থুল পড়ে গেছে।