“৭ বার ফোন করে টাকার অফার!” তৃণমূল কাউন্সিলরকে নিয়ে বিস্ফোরক বিজেপি বিধায়ক রীতেশ, চরম তোলপাড়!

আসন্ন নির্বাচনের আবহেই এবার শাসকদলের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মারাত্মক আর্থিক প্রস্তাব ও অনৈতিক প্রলোভনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন কাশিপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর দাবি, ভোটে দাঁড়ানোর টিকিট পেতে এবং বিজেপিতে যোগ দিতে তাঁরই কেন্দ্রের এক বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁকে ৭ বার ফোন করে বিরাট টাকার অফার দিয়েছেন! শুধু তাই নয়, তাঁর বন্ধু এবং দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছেও সেই কাউন্সিলর দম্পতি নানাভাবে দরবার করেছেন বলে দাবি করেছেন বিধায়ক।

ড্রপবক্সে চিঠি থেকে ৭ বার ফোন! ঠিক কী ঘটেছিল?

এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে রীতেশ তিওয়ারি পুরো বিষয়টি উগরে দিয়ে বলেন,

“বর্তমানে একজন কাউন্সিলর… আমারই কেন্দ্রের কাউন্সিলর, তিনি তৃণমূলের কোন্দলে কোন শিবিরের প্রতিনিধি তা আমি জানি না! তিনি তাঁর ড্রাইভারকে দিয়ে আমাদের ড্রপবক্সে চিঠি ফেলেছেন। পরবর্তীতে আমাদের এই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নেতৃত্বের কাছে ওই কাউন্সিলর ও তাঁর স্ত্রী গিয়ে কাকুতি-মিনতি করে মাথা ঠেকিয়ে এসেছেন।”

টাকার অফার প্রসঙ্গে বিধায়ক আরও যোগ করেন, “আমার এক বন্ধুকে ফোন করে তাঁরা বিপুল টাকা অফার করেছেন। এমনকি আমাকেও পর পর ৭ বার ফোন করা হয়েছে! সেই সব কলের রেকর্ড আমি এখনো ফোন থেকে ডিলিট করিনি, প্রমাণ হিসেবে রেখে দিয়েছি। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল— ‘আমাকে একটু কনসিডার করুন, দলের সবাই রাজি আছে… কেবল আপনার জন্যই আমাদের দলে ঢোকা আটকে রয়েছে।’

“লুটেরাদের আমরা কেন দলে নেব?”—কড়া সুর রীতেশের

শাসকদলের ওই কাউন্সিলরের প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রীতেশ বলেন, “যাঁরা বিগত ১৫ বছর ধরে এলাকা জুড়ে অবাধে লুটপাট চালালেন, তাঁদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গিয়ে সাধারণ মানুষ আমাদের জয়ী করেছেন। সেই সমস্ত ব্যক্তিদের নিজেদের দলে টেনে বা আমাদের পার্টির প্রার্থী করার জন্য আমরা কেন বিবেচনা করতে যাব?”

কাশিপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা এলাকায় বিজেপি বিধায়কের এই বিস্ফোরক অডিও ও প্রস্তাবের দাবির পর শাসকদলের অন্দরে রীতিমতো অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপির এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তৃণমূল কাউন্সিলর বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *