হঠাৎ বড় বিপর্যয় বা যুদ্ধ বাধলে কী করবেন? বেঁচে থাকার জন্য আজই ঘরে এই ৫টি জরুরি জিনিস জমিয়ে রাখুন!

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কোনো যুদ্ধাবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের বিপর্যয় যে কোনো মুহূর্তে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করার জন্য, যা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত জরুরি পরিস্থিতি বা বিপর্যয় সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হলে ঘরে কিছু বিশেষ জিনিস আগে থেকেই মজুদ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
দুর্যোগ বা যুদ্ধের মতো সংকটকালে পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘরে কোন জরুরি জিনিসগুলো অবশ্যই রাখা উচিত, একনজরে জেনে নেওয়া যাক তার একটি তালিকা।
১. বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা
বিপর্যয়ের সময়ে সবার আগে যে সংকট দেখা দেয়, তা হলো সুপেয় জলের অভাব। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাড়িতে অন্তত কয়েকদিনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বোতলবন্দী বা ফিল্টার করা জল মজুদ রাখুন। এছাড়া জল বিশুদ্ধ করার জন্য কিছু ওয়াটার পিউরিফিকেশন ট্যাবলেট বা ড্রপও কিনে রাখতে পারেন।
২. শুকনো ও দীর্ঘস্থায়ী খাবার (Dry Rations)
রান্না করার সুযোগ না থাকলে বেঁচে থাকার জন্য এমন কিছু খাবার দরকার যা সহজে নষ্ট হয় না এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। এর মধ্যে রয়েছে শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটস, এনার্জি বার, বিস্কুট, গ্লুকোজ, টিনজাত খাবার (Canned food) এবং নুডুলস।
৩. ফার্স্ট এইড ও জরুরি ওষুধপত্র
সংকটকালে হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ না-ও থাকতে পারে। তাই ঘরে একটি সম্পূর্ণ ফার্স্ট এইড বক্স রাখা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে ব্যান্ডেজ, তুলা, অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম, কাঁচি ছাড়াও জ্বর, পেট খারাপ, বমি ও ব্যথানাশক কিছু মৌলিক ওষুধ এবং পরিবারের কোনো সদস্যের নিয়মিত খাওয়ার প্রেসক্রিপশনের ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে সংগ্রহ করে রাখুন।
৪. টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাটারি
যুদ্ধ বা বড় কোনো বিপর্যয়ের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ দীর্ঘসময় বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। অন্ধকার রাতে চলাফেরা বা যোগাযোগের জন্য একাধিক ভালো টর্চলাইট, এক্সট্রা ব্যাটারি এবং মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য ফুল চার্জ করা পাওয়ার ব্যাংক বা সোলার চার্জার সবসময় হাতের কাছে রাখুন।
৫. জরুরি কাগজপত্র এবং নগদ অর্থ
বিপদের সময় ঘর ছাড়তে হলে পরিচয়পত্র বা ব্যাংকের কাগজপত্রের আসল কপিগুলোর পাশাপাশি সেগুলোর স্ক্যান করা ডিজিটাল কপি পেন ড্রাইভে বা ক্লাউডে সেভ করে রাখুন। পাশাপাশি এটিএম বা অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম কাজ না করলে যেন বিপদে পড়তে না হয়, সেজন্য কিছু নগদ টাকা বা ক্যাশ ঘরে আলাদা করে জমিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
সতর্কতা ও প্রস্তুতিই যেকোনো বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার সেরা উপায়। আতঙ্কিত না হয়ে আজই নিজের পরিবারকে সুরক্ষার ছাতার নিচে রাখতে এই প্রস্তুতিগুলো সেরে রাখুন!