ট্রাম্পের ‘হাত খালি’! মার্কিন নির্বাচনে ভরাডুবি রিপাবলিকানদের, তবে কি শেষের শুরু?

২০২০ সালের পর এমন বড় ধাক্কা আর পেতে হয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। ভোট গণনার যা ট্রেন্ড, তাতে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভস— উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ কার্যত হাতছাড়া হয়েছে রিপাবলিকানদের। ফলে আগামী দু’বছর ডেমোক্র্যাটদের পরাক্রমী অবস্থানের মুখে পড়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়লেন ট্রাম্প।

আমেরিকার এই রাজনৈতিক পালাবদলের দিকে গভীর নজর রাখছে গোটা বিশ্ব, বিশেষ করে ভারত। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি ভারতে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ক্ষমতার অলিন্দে ট্রাম্পের প্রভাব খর্ব হওয়া দিল্লির জন্য নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

কেন মুখ ফেরাল আমেরিকার সাধারণ মানুষ?

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আফ্রিকান-আমেরিকান, হিস্পানিক এবং ভারতীয়-আমেরিকানদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া খরচই ছিল তাঁদের ক্ষোভের প্রধান কারণ। এমনকি ‘ডিমের দাম’ মার্কিন পরিবারগুলির কাছে মূল্যবৃদ্ধির একটি বড় মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিগত দু’বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসার বদলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।

  • জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত খরচ: জ্বালানি তেল, পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম হু-হু করে বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আমেরিকানদের পকেটে টান পড়েছে।

  • গ্রামীণ আমেরিকার ক্ষোভ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিড-ওয়েস্ট বা পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা মূলত গ্রামাঞ্চল। সেখানে বাজার, স্কুল কিংবা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য গাড়ি ব্যবহার করা আবশ্যিক। তেলের অগ্নিমূল্যের কারণে ওই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন খরচ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যালট বাক্সে।

ইরান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নীতির প্রভাব

ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ‘MAGA’ (Make America Great Again) স্লোগান দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমেরিকা কোনো নতুন যুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু বাস্তবে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এবং ইরান কেন্দ্রিক প্রায় আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদেরও হতাশ করেছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়েছে, যার সরাসরি খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ মার্কিন নাগরিককে।

ভারতের জন্য এর অর্থ কী?

মার্কিন সেনেট ও হাউসে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থায় চলে আসায় ট্রাম্পের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় বড়সড় ধাক্কা লাগল। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ফলাফলের পর:

  • ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপানো অতিরিক্ত ‘ট্যারিফ’ কি শিথিল হবে?

  • ভারতীয় পেশাদারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ H-1B ভিসা সংক্রান্ত কঠোর নীতির ক্ষেত্রে কি নমনীয়তা আসবে?

মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলিতেও ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ে স্পষ্ট— ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতিতে মার্কিনীরা আর আস্থা রাখতে পারছেন না। ট্রাম্পের ডানা ছাঁটা যাওয়ায় ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অভিবাসন সংক্রান্ত একাধিক নীতিতে প্রশাসনিক রদবদল ঘটতে পারে, যা ভারতের জন্য নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *