ভোটের ধাক্কায় বেসামাল ট্রাম্প! আমেরিকা ছেড়ে কি এবার অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

আমেরিকার বহুল চর্চিত মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ‘মিডটার্ম ইলেকশন’-এ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে শাসক দল রিপাবলিকান পার্টি। সেই সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে। ভোট গণনা শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এগিয়ে গিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এমনকি জর্জিয়া এবং ভার্জিনিয়ার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও জয় তুলে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনমতের এই ভরাডুবির আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।

“আমেরিকা ছাড়বেন ট্রাম্প?”—ফক্স নিউজের মঞ্চে বিস্ফোরক মন্তব্য
সম্প্রতি ফক্স নিউজের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে ট্রাম্পের ক্রমশ নিম্নমুখী রেটিং এবং জনগণের অসন্তোষ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রসিকতার ছলে অত্যন্ত বিস্ফোরক এক মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমেরিকার মানুষ যদি আমাকে নিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েন, তবে আমি ইজরায়েল চলে যাব। সেখানকার গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হব!” ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রচার পাওয়া মাত্রই তা বিশ্ব রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

ইজরায়েলকে অর্থসাহায্য বন্ধের কড়া ঘোষণা
একই অনুষ্ঠানে ইজরায়েল ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও এক বড় সিদ্ধান্ত জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ করেন যে, ইজরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন ‘বিবি’ নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একটি বিশেষ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এ বছরের শেষ থেকেই ইজরায়েলকে আমেরিকা কর্তৃক প্রদত্ত বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪ কোটি ডলার) অর্থনৈতিক সাহায্য পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে। ট্রাম্পের দাবি, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী ইজরায়েলের এখন আর এই মার্কিন অর্থসাহায্যের প্রয়োজন নেই।

আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপ
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া এবং ইজরায়েলকে টানা সামরিক সহায়তা জুগিয়ে যাওয়ার কারণে মার্কিন মুলুকে দীর্ঘ দিন ধরেই কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। আমজনতার একাংশের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই চাপ সামলাতেই কি ট্রাম্প বছরের শেষে ইজরায়েলকে অর্থ দেওয়া বন্ধের কথা ঘোষণা করলেন?—উঠছে প্রশ্ন। তবে রসিকতার ছলে হলেও অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনা প্রকাশ করে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ককে আরেক ধাপ উসকে দিলেন ট্রাম্প নিজেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *