সৌরভ-ধোনি তো বটেই, শচীনের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের তালিকায় হঠাৎ কার নাম ঢুকে চমকে দিল ক্রিকেট বিশ্বকে?

তিনি ক্রিকেট বিশ্বের অবিসংবাদিত ‘ঈশ্বর’ তথা মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেন্ডুলকর। তাঁর মুখে সতীর্থ বা প্রতিপক্ষ অধিনায়কদের নিয়ে কাটাছেঁড়া হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সম্প্রতি এক বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের সেরা অধিনায়কদের তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে এমন কিছু নাম সামনে এনেছেন শচীন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে ক্রিকেট মহলে। সৌরভ গাঙ্গুলি কিংবা মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম থাকাটা প্রত্যাশিত হলেও, তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্যে লুকিয়ে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের অতীতের বহু অজানা অধ্যায়।
সৌরভ ও ধোনিই তাঁর তালিকার শীর্ষে
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার শচীন নিজে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিলেও, তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারের সোনালী সময়গুলোর একটা বড় অংশ কেটেছে অন্য সফল অধিনায়কদের নেতৃত্বে। সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে ২০০৩ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিল ভারত, আবার মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত ধরে ২০১১ সালে বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন খোদ শচীন। স্বাভাবিকভাবেই, প্রিয় অধিনায়কের কথা বলতে গিয়ে মাস্টার ব্লাস্টার সবার আগে সৌরভ গাঙ্গুলি এবং এমএস ধোনির নামই সগর্বে উচ্চারণ করেছেন। শচীনের সাফ কথা, “আমার প্রিয় অধিনায়কদের কথা বললে সৌরভ গাঙ্গুলি এবং এমএস ধোনি অবশ্যই তালিকার একেবারে ওপরে থাকবে।”
নয়ের দশকের সেই কঠিন সময় ও অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা
ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে শচীন জানান, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর কাছে সবসময়ই অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের বিষয় ছিল। তবে সেই পথটা মোটেও ফুলসজ্জা ছিল না। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুই দফায় ভারতের ২৫টি টেস্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা শচীন বলেন, “সবসময় নিজের পছন্দমতো দল বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আমার ছিল না। নয়ের দশকের তুলনায় বর্তমান বিসিসিআই অনেক বেশি পেশাদার। সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেটকেও একটা কঠিন এবং অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।” উল্লেখ্য, ২০০০ সালের মার্চে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারের পর স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তাঁকে ফের টেস্ট দলের কাপ্তান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শচীন সেই প্রস্তাব বিনম্রভাবে ফিরিয়ে দেন এবং এরপরই নেতৃত্বের ব্যাটন যায় ধোনির হাতে।
তেম্বা বাভুমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ শচীন
শুধু ভারতীয় অধিনায়কেরাই নন, আধুনিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার নেতৃত্ব ও মানসিকতারও উচ্চ প্রশংসা করেছেন শচীন তেন্ডুলকর। তাঁর মতে, বাভুমা যেভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রোটিয়া বাহিনীকে একের পর এক ম্যাচ জেতাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল অবশেষে কোনো আইসিসি ট্রফি জিতলে তা গোটা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যই দারুণ এক প্রাপ্তি হবে বলে মনে করেন ক্রিকেট ঈশ্বর।