এআই (AI) রেসে বাজিমাত করতেই কি হাজার হাজার কর্মীর বলি? বন্ড বাজার কাঁপিয়ে বিপুল টাকার ঋণ মাইক্রোসফটের

বিশ্ব প্রযুক্তির দুনিয়ায় দুই বিপরীতমুখী ও চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বা ‘বাইআউট’ প্রস্তাব দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট, অন্যদিকে ঠিক একই সময়ে আন্তর্জাতিক বন্ড বাজার থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২ লাখ কোটি টাকারও বেশি) বিপুল ঋণ সংগ্রহ করছে কোম্পানিটি। একই সাথে নেওয়া সংস্থাটির এই দুই বড় সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রযুক্তি ও কর্পোরেট জগতে জল্পনা চরমে।

কেন হাজার হাজার কর্মীকে চাকরি ছাড়ার অফার? সংস্থা সূত্রে খবর, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের মতো বড় কেন্দ্রগুলোতে থাকা তাঁদের মোট ২.২৩ লক্ষ কর্মী বাহিনীর মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ—অর্থাৎ প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ার বা ‘বাইআউট’ অফার দেওয়া হয়েছে। যদিও কোম্পানির দাবি, এই ছাঁটাই ও বাইআউট প্রস্তাবের সাথে বন্ড বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সিদ্ধান্ত। তবে সিদ্ধান্ত দুটির সময়কাল ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কেন ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে মাইক্রোসফট? আসল খেলা চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রতিযোগিতায়। এআই পণ্য ও ক্লাউড পরিষেবাকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে প্রয়োজন বিশাল কম্পিউটিং ক্ষমতা, যার জন্য দরকার হাই-টেক ডেটা সেন্টার, সার্ভার এবং আধুনিক অবকাঠামো। ২০২৬ সালের মধ্যে মাইক্রোসফটের মূলধনী ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে। এই বিপুল খরচ সামলাতেই মূলত বন্ড বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী তহবিল গড়ে তুলছে তারা।

মাইক্রোসফটের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) অ্যামি হুড জানিয়েছেন, কোম্পানির শক্ত ক্রেডিট রেটিং থাকা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের পর এবারই প্রথম তারা মার্কিন বন্ড বাজারে নামল। ২০২৮ থেকে ২০৬৬ সালের মধ্যে ১০টি কিস্তিতে মেটানোর শর্তে এই বন্ডগুলো ইস্যু করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের তুমুল উন্মাদনা: মাইক্রোসফটের ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের সিদ্ধান্তের খবর মিলতেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নজিরবিহীন আগ্রহ দেখা গেছে। বন্ড কেনার জন্য প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে সাড়ে চার গুণ বেশি—অর্থাৎ প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলারের দর হাঁকেন বিনিয়োগকারীরা। প্রযুক্তি বাজারে এআই-এর ভবিষ্যৎ ও মাইক্রোসফটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এই বিপুল আস্থা কর্পোরেট জগতে এক নতুন নজির তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *