“পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরে আসবে, শুধু কাজ দিয়ে ভরিয়ে দেব!” শিলিগুড়ির মাটি থেকে ডবল ইঞ্জিন সরকারের চোখধাঁধানো মাস্টারস্ট্রোক

উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে শিক্ষা, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের এক ঝাঁক মেগা প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রসারে একাধিক নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ১ লক্ষ নতুন সরকারি চাকরি এবং আর্থিক সহায়তার বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প ও শিক্ষাকেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি: এদিনের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যবাসীর জন্য কাজের কোনো কমতি হবে না। উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে তিনি বড় ঘোষণা করে বলেন, রায়গঞ্জে এইমস (AIIMS), জলপাইগুড়িতে ক্যানসার হাসপাতাল, এবং বালুরঘাট, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে একাধিক নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। এখানেই থেমে না থেকে তিনি শিলিগুড়ি সম্পর্কে বলেন, “শিলিগুড়ি সবসময় আমাদের ভদ্রাসন। এখানেও আরও পর্যটন ও উন্নয়ন দিতে হবে। আইআইটি (IIT) বা আইআইএম (IIM)-এর মতো উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ার জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে।”
১ লক্ষ চাকরির মেগা ঘোষণা ও ‘ভরসা স্কিম’: কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ১১ হাজার পুলিশের হাতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের আরও ১ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেবে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার।
পাশাপাশি, রাজ্যের যুব সমাজের জন্য বড় ঘোষণা করে তিনি জানান, গ্র্যাজুয়েট ও নন-গ্র্যাজুয়েটদের কথা মাথায় রেখে খুব শীঘ্রই রাজ্যে চালু হতে চলেছে বিশেষ ‘ভরসা স্কিম’। এছাড়া মা-বোনেদের জন্য অন্নপূর্ণা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী জন-ঔষধী কেন্দ্র, সূর্যঘর যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ির এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক যুগান্তকারী ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।