গভীর রাতে তালা ভেঙে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ধামাকাদার চুরি! সিসিটিভি ফুটেজে বন্দি মুখ ঢাকা ডাকাতদল, চাঞ্চল্য বীরভূমে

মধ্যরাতে নিখুঁত পরিকল্পনা করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তালা ভেঙে লক্ষাধিক টাকা নয় ছয় করার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার বনগ্রাম পঞ্চায়েতের ভালদার গ্রামে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে (Customer Service Point) এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুষ্কৃতীরা সুচারুভাবে পরিকল্পনা করেই এই অপারেশন চালিয়েছে।

সকালে ব্যাঙ্ক খুলতেই সামনে এল ভয়ঙ্কর দৃশ্য: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও ব্যাঙ্কের কর্মীরা নির্ধারিত সময়ে অফিস খুলতে আসেন। কিন্তু তাঁরা এসেই দেখতে পান মূল দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় ঝুলছে। এরপর আতঙ্কিত হয়ে কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখেন, গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের লকার বা ভল্টের তালা ভেঙে সব কিছু তছনছ করা হয়েছে এবং সেখানে থাকা সমস্ত নগদ টাকা গায়েব!

সিসিটিভিতে বন্দি রহস্যজনক দুষ্কৃতীদল: ঘটনার খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ভিড় জমে যায়। পরে ব্যাঙ্কের ভেতরে থাকা ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন বা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেই ফুটেজে স্পষ্ট ধরা পড়েছে যে, গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী অত্যন্ত সুকৌশলে ব্যাঙ্কের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, চেনার উপায় না রাখতে ওই ডাকাত দলের প্রত্যেকের মুখ গামছা বা কাপড় দিয়ে শক্ত করে ঢাকা ছিল। তারা ভেতরে ঢুকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে লকার ভেঙে টাকা লুট করে চম্পট দেয়।

ব্যাঙ্কের সহ-পরিচালক সুজন মণ্ডল এই বিষয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সকালে এসে দেখি মূল দরজার তালা ভাঙা রয়েছে। ভেতরে ঢুকে দেখি লকারের অবস্থাও এক্কেবারে চূর্ণবিচূর্ণ এবং টাকা নেই। সঙ্গে সঙ্গে আমরা স্থানীয় থানায় খবর দিই। পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করেছে। তবে আমাদের এই এলাকায় অতীতে এই ধরনের ধৃত বা দুষ্কৃতীমূলক কাণ্ড কখনও ঘটেনি, যা আমাদের আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।”

পুলিশের তদন্ত ও রহস্য: খবর পাওয়া মাত্রই সাঁইথিয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পাশাপাশি ব্যাঙ্কের ভেতরে ও বাইরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্য কোনো தடণ বা আলামত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, নগদ প্রায় ৫২ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে গিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুষ্কৃতীরা। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো স্থানীয় গ্যাং নাকি অন্য কোনো পেশাদার চক্র হাত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে বীরভূম জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে যোগাযোগ করা হলে, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাঁরা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। শিল্পাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার এই নিরাপত্তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *