বিদেশের মাটিতে খেলার টাকাও বন্ধ? পিভি সিন্ধু-লক্ষ্য সেনদের ‘আজব শাস্তি’ নিয়ে তুলকালাম ভারতীয় ক্রীড়ামহলে!

বিদেশের মাটিতে ভারতের জাতীয় পতাকা উঁচুতে তুলে ধরার জন্য জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেন তাঁরা। কিন্তু সেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগেই যদি সরকারি অনুদান ও সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়, তবে খেলোয়াড়রা যাবেন কোথায়? সম্প্রতি এমনই এক নজিরবিহীন ও ‘আজব শাস্তি’র শিকার হতে হলো পিভি সিন্ধু ও লক্ষ্য সেনের মতো দেশের তারকা শাটলারদের।

বিডব্লিউএফ (BWF) ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ইউরোপীয় পর্বে অংশ নিতে গিয়ে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা ‘সাই’ (SAI)-এর তরফে কোনো আর্থিক সাহায্য পাননি ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকারা। ফলে ফিনল্যান্ড, জার্মানি সহ ইউরোপ সফরের যাতায়াত ও দৈনন্দিন একাধিক প্রয়োজনীয় খরচ খেলোয়াড়দের নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হয়েছে।

ইউরোপে জোড়া খেতাব জয় ও চরম আর্থিক সংকটের গল্প:
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘হাইলো ওপেন’-এ মহিলাদের সিঙ্গলসে পিভি সিন্ধু এবং পুরুষদের সিঙ্গলসে লক্ষ্য সেন দুরন্ত পারফরম্যান্স করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তবে এই রোমাঞ্চকর জয়ের নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ধাক্কা।

খবর অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে ব্যাকআপ হিসেবে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের (BAI) তরফে কেবল খেলোয়াড়দের থাকার জন্য হোটেলের বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু যাতায়াত সহ বাকি আনুষঙ্গিক খরচ শাটলাররা নিজেদের গাঁটের কড়ি খসিয়ে মেটান। এমনকি অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধুকেও নিজের পকেট থেকে বড় অংকের টাকা খরচ করতে হয়, যা পরে আংশিকভাবে তাঁর স্পনসর এবং ‘অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্ট’ বহন করে।

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার কোপ নাকি অন্য কিছু?
সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসে আইচি-নাগোয়াতে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন দলের পারফরম্যান্স ছিল আশানুরূপ নয়। ঐতিহ্যবাহী এই আসরে ভারত মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক পায়। সেই সময় ক্রীড়ামহলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে যে, এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার চরম ‘শাস্তি’ হিসেবেই হয়তো তারকা শাটলারদের সরকারি ফান্ড বা অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে ‘সাই’।

তবে বিতর্ক তীব্র হতেই মুখ খুলেছে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সাই-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই আর্থিক কোপের সঙ্গে এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্সের কোনো সম্পর্ক নেই। মূল সমস্যাটি ঘটেছে প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে।

সাই-এর সাফাই ও ক্ষুব্ধ ক্রীড়াপ্রেমীরা:
সাই-এর শীর্ষ সূত্রের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে খেলোয়াড়দের তালিকা ও প্রয়োজনীয় খরচের প্রস্তাবপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (BAI)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক প্রস্তাব না আসায় সরকারি তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি সংস্থার দাবি, প্রায়শই বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন শেষ মুহূর্তে অর্থ সহায়তার আর্জি জানায়, কিন্তু সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় এবার বিপাকে পড়তে হলো সিন্ধু-লক্ষ্যদের।

প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জট যেটাই হোক না কেন, দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে যাওয়া বিশ্বসেরা ক্রীড়াবিদদের এভাবে পকেটের টাকা খরচ করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক ও ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *