গভীর রাতে জাতীয় সড়কে ভলভো বাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ফার্স্ট এইড বক্স খুলতেই যাত্রীদের চোখ ছানাবড়া!

উৎসবের মরশুমে পকেটের রেস্ত খসিয়ে বিপুল ভাড়ায় দূরপাল্লার বাসে সফর করছেন যাত্রীরা। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা ঠিক কতটা নড়বড়ে, তার এক আতঙ্কজনক চিত্র ধরা পড়ল জাতীয় সড়কে। কলকাতা থেকে শিলিগুড়িগামী এক নামী বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার ভলভো বাসের বেপরোয়া চলাচল ও আচমকা দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে যাত্রী মহলে। ফরাক্কার কাছে ঘটা দুর্ঘটনার পর প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থাই ছিল না সেই বাসে।

পাথরের লরিতে সজোরে ধাক্কা ও ফার্স্ট এইড বাক্সে ‘পেন ড্রাইভ’!
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত গভীর রাতে। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ওই ভলভো বাসটি ফরাক্কার কাছাকাছি এলাকায় একটি পাথর বোঝাই লরিতে সজোরে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দে বাসের একাধিক জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং বহু যাত্রী কম-বেশি আহত হন।

দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত যাত্রীরা রক্তের দাগ মোছা ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ড্রাইভার ও খালাসির কাছে ফার্স্ট এইড কিট (First Aid Kit) দাবি করেন। প্রথমে বাস কর্মীদের গড়িমসি থাকলেও যাত্রীদের তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচিতে শেষমেশ একটি জরুরি বাক্স বের করা হয়। কিন্তু সেই বাক্স খুলতেই চোখ কপালে ওঠে যাত্রীদের! বাক্সের ভেতর ওষুধের নামগন্ধ নেই; রয়েছে কেবল মেয়াদ উত্তীর্ণ একটি ব্যথানাশক মলম এবং নানা আকারের একাধিক পেন ড্রাইভ!

জাতীয় সড়কে তল্লাশি, অধরাই ওষুধ!
এই ঘটনার পর জাতীয় সড়কে চলাচলকারী অন্যান্য একাধিক দূরপাল্লার বাস থামিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ওষুধ খোঁজার চেষ্টা করেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কোনো বাসেই মেলেনি ন্যূনতম জরুরি ওষুধপত্র। উৎসবের মরশুমে যেখানে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম হাঁকানো হচ্ছে, সেখানে বাস পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির এমন চরম গাফিলতি যাত্রী সুরক্ষা ও আইনের নিয়মাবলী নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পরিবহণ সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়া ও দায় ঠেলো নীতি:
দুর্ঘটনা ও গাফিলতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কিছু পরিবহণ সংস্থা। অভিযুক্ত সংস্থার (শ্যামলী পরিবহণ) ধর্মতলা অফিস অবশ্য দুর্ঘটনা ঘটার কথা সরাসরি স্বীকার করতে চায়নি। তবে তাদের দাবি, সংস্থার প্রতিটি বাসেই নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম মজুত থাকে।

অন্যান্য বাস ঘুরে দেখতে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু বাসে ফার্স্ট এইড কিট থাকলেও ‘গ্রিন লাইন’ সহ একাধিক নামী সংস্থার বাসে জরুরি ওষুধপত্র সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কর্তৃপক্ষের সস্তা সাফাই— তাঁদের সব বাসে ফার্স্ট এইড বক্স থাকে, কাকতালীয়ভাবে কেবল ওই নির্দিষ্ট বাসটিতেই তা ছিল না।

দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে যাত্রীদের প্রশ্ন, উৎসবের মরশুমে বিপুল টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও যদি প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোন ভরসায় এই সমস্ত বিলাসবহুল দূরপাল্লার বাসে উঠবেন?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *