বাজি ফাটানো যাবে দীপাবলিতে! তবে মানতে হবে সময় ও কড়া নিয়ম, জেনে নিন শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত নিদান

নিষেধাজ্ঞার পাহাড় ডিঙিয়ে দীপাবলির মুখে বড়সড় স্বস্তি মিলল দিল্লি এবং এনসিআর (National Capital Region)-এর অধিবাসীদের। ঐতিহ্য ও বায়ুদূষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে দিল্লি-এনসিআরে আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ বাজি’ (Green Firecrackers) পোড়ানোর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালতের এই ছাড় একেবারেই সীমাহীন নয়; উৎসবের আমেজ বজায় রাখার পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া বিধিনিষেধ বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বাজি ফাটানো যাবে কখন?

সোমবার বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি. ভারালের একটি বিশেষ বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৭ই এবং ৮ই নভেম্বর কেবল নির্দিষ্ট দুটি সময়ের ব্যবধানে বাজি পোড়ানো যাবে:

  • সকালের নির্ধারিত সময়: সকাল ৬টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত (১ ঘণ্টা)।

  • রাতের নির্ধারিত সময়: রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত (২ ঘণ্টা)।

এই নির্দিষ্ট সময়সীমা ব্যতীত অন্য কোনো সময়ে বাজি ফাটানো সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে।

কড়া বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা

বাজি পোড়ানোর স্থান এবং এর ধরণ নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত:

১. স্থান নির্দিষ্টকরণ: হাসপাতাল, নার্সিংহোম, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নীরব অঞ্চল (Silent Zones)-এর অন্তত ৩০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো ধরনের আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২. নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল: আগামী ৯ই নভেম্বর থেকে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে আতশবাজির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা পূর্বের মতোই পুর্নবহাল করা হবে।

৩. সবুজ বাজিই কেবল গ্রাহ্য: ঐতিহ্যবাহী, বেরিয়ামযুক্ত কিংবা অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী বাজি তৈরি ও বিক্রি করা যাবে না। কেবল সিএসআইআর-এনইইআরআই (CSIR-NEERI) এবং পিইএসও (PESO) অনুমোদিত কিউআর (QR) কোডযুক্ত সবুজ বাজিই নির্ধারিত স্থান থেকে কেনা যাবে।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, আদালতের এই নির্দেশাবলী কঠোরভাবে পালন করতে হবে। নিয়ম ভঙ্গকারী প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *