“তৃণমূলের গুন্ডাগিরি বন্ধ করেছেন শুভেন্দুই!” কলকাতায় মেগা মিছিলে কড়া বার্তা বিজেপির জাতীয় সভাপতির

রাজধানী দিল্লিতে বিরোধীদের ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের মেগা সমাবেশের পাল্টা জবাব দিতে এবার কলকাতার রাস্তায় নামল বিজেপি। সোমবার কলকাতা শহরের বুকে আয়োজিত হলো বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও যাত্রা’। ধর্মতলা থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত আয়োজিত এই বিশালাকার মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় প্রতিনিধি নিতিন নবীন। সাথে ছিলেন রাজ্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য।
মিছিল শেষে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন নিতিন নবীন। সেই সাথে শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডাগিরি শেষ করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় তোলাবাজি এখন তালাবন্ধ।”
‘মমতা হেরে গিয়ে দিল্লিতে কাঁদছেন’
বিরোধী জোটকে এক হাত নিয়ে নিতিন নবীন দাবি করেন, “বাংলা বিজেপিময় হয়ে উঠেছে, অরাজকতার দিন শেষ। বাংলায় হেরে এখন দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের কাছে ব্যক্তিস্বার্থই আগে, কিন্তু বিজেপির কাছে দেশ সবার প্রথমে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দেশজুড়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে বাঁচানো।”
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তিনি আরও যোগ করেন, “রাহুল গান্ধী ভোটের আগে মমতার হয়ে বড় বড় কথা বলেছিলেন। এখন নিজেদের ব্যর্থতা থেকে তাদের শেখা উচিত, তা না হলে দেশে আর কংগ্রেস থাকবে না। বিদেশি শক্তির ইশারায় রাজনীতি করেন রাহুল, আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চিন্তা করেন দেশবাসীর জন্য।”
অনুপ্রবেশ ও ২০২৯-এর বার্তা
রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারী হঠানোর বার্তা দিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, “দেশ থেকে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে। বাংলায় তৃণমূলের অপশাসন বন্ধ হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, আপনি বিরোধীদের রামলীলা যাত্রায় যোগ না দিয়ে রাজ্যের মানুষের সেবায় মন দিন। রাজ্যের মানুষের কাজের জন্য লড়াই চালাবেন শুভেন্দু অধিকারী।”
ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা টেনে তিনি জোর গলায় দাবি করেন, “২০২৯ সালেও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী এবং ওই বছর লালকেল্লায় তিনিই তেরঙ্গা উড়াবেন।”