বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে মুখ খোলাই কাল হলো! ডাম্পার পিষে খুন কৃষক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুমুল বিতর্ক

অবৈধ বালি পাচারের (Illegal Sand Mining) বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাই যেন কাল হলো এক কৃষকের জন্য। মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শরৎ রতন পাতিল নামের এক কৃষককে ডাম্পার দিয়ে পিষে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় ওই কৃষকের দুটি পা মারাত্মকভাবে থেঁতলে যায় এবং পরবর্তীতে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে জলগাঁওয়ের অমলনের তালুকের নন্দ্রী গ্রামের কাছে। এই ঘটনার সবচেয়ে বিস্ফোরক ও আশঙ্কাজনক দিক হলো— নির্মম হত্যার ঠিক তিন দিন আগেই নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই কৃষক। কিন্তু অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

ঘটনার পর পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে এবং মূল অভিযুক্ত ডাম্পার চালক ভরত সুভাষ পাতিলকে গ্রেফতার করেছে।

বালি মাফিয়াদের সঙ্গে পুরনো বিরোধ

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শরৎ পাতিল তাঁর এলাকায় অবৈধ বালি পরিবহনের তীব্র বিরোধিতা করছিলেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই বালি মাফিয়াদের একটি দলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ উঠেছে যে, হত্যার তিন দিন আগে তাঁকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি অনুভব করে শরৎ পাতিল অমলনের থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পরেও পুলিশ সময়মতো কেন উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে পূর্বের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল, সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অমলনের থানার পুলিশ চার অভিযুক্ত— বিপুল কিরণ গোসাভি, ময়ূর অনিল বোরসে, সাগর সঞ্জয় গোসাভি এবং ভরত সুভাষ পাতিলের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে।

ডাম্পার বাজেয়াপ্ত, তদন্তে পুলিশ

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ডাম্পারটি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত ভরত এখন পুলিশ হেফাজতে থাকলেও বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। পুলিশ বাকিদের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যে এই হত্যাকাণ্ডটি কেবলই বালি পাচারের বিরোধিতার কারণে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতা জড়িয়ে রয়েছে। অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কৃষকের দেওয়া আগের অভিযোগটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘাতক ডাম্পারটি কোথা থেকে আসছিল এবং কোথায় বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বালি মাফিয়া ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

এই মর্মান্তিক ঘটনা জলগাঁও জেলায় বালি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে:

  • প্রাণনাশের হুমকির খবর দেওয়ার পরেও কেন কৃষক শরৎ পাতিলকে উপযুক্ত সুরক্ষা দেওয়া হলো না?

  • পুলিশের প্রাথমিক গাফিলতির কারণেই কি এই তাজা প্রাণ ঝরে গেল?

  • অবৈধ বালি পরিবহনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা কি তবে শিকেয় উঠেছে?

জেলাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা এখন পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এই تمام প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *