নির্বাচনের মুখেই আপ-এ বড়সড় ভাঙন! একযোগে বিজেপিতে ৩ বিধায়ক, পঞ্জাবে তোলপাড় রাজনীতি

২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই চরম ধাক্কা খেল ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (AAP)। হাত ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন কেজরিওয়ালের দলের ৩ জন দাপুটে বিধায়ক। এই রাজনৈতিক উলটপুরাণের পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন পঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার। দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ৫ নভেম্বর স্বশরীরে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন পাঠানো হয়েছে।

সোমবারে দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া ৩ আপ বিধায়ক হলেন— সনোড়ের বিধায়ক হরমিৎ সিং পাঠানমাজরা, সমানার বিধায়ক চেতন সিং জোড়ামাজরা এবং অমৃতসর উত্তরের বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং।

এই ৩ জনের মধ্যে প্রাক্তন আইপিএস তথা অমৃতসর উত্তরের বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিং ইতিমধ্যেই বিধানসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অন্য দুই বিধায়ক হরমিৎ এবং চেতন সিং দল ত্যাগ করেছেন। আর এই দু’জনের বিরুদ্ধেই দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় স্পিকার কড়া নোটিশ পাঠিয়েছেন।

প্রার্থীতালিকা প্রকাশের পরই কেন এই বিদ্রোহ?

পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আম আদমি পার্টি ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করার পরপরই এই অন্তর্বিদ্রোহ প্রকাশ্যে আসে। প্রকাশিত এই প্রথম তালিকায় উপরোক্ত ৩ জন বিধায়কের কারোরই নাম ছিল না।

শুধু তাই নয়, হরমিৎ সিং পাঠানমাজরার কেন্দ্র সনোড়ে রণজোধ সিং হডানা এবং চেতন সিং জোড়ামাজরার কেন্দ্র সমানায় প্রাক্তন অকালি নেতা সুরজিৎ সিং রাখড়াকে দলের কেন্দ্র ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। টিকিট না পাওয়া এবং দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হওয়াতেই শেষ পর্যন্ত তাঁরা বিদ্রোহের পথ বেছে নেন।

হরমিৎ সিং তাঁর ইস্তফাপত্র সরাসরি আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী চেতন সিং জোড়ামাজরা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সরাসরি স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন। ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তিন নেতাই দলীয় নেতৃত্ব এবং ভগবন্ত মান সরকারের কাজকর্ম ও নীতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

দিল্লি থেকে কেজরিওয়াল সরকারকে আক্রমণ

দিল্লিতে পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েই ভগবন্ত মান সরকার এবং আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এই তিন নেতা। রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান মাদকের সমস্যা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি এবং পঞ্জাব সরকারের অভ্যন্তরীণ কাজে দিল্লির আপ নেতাদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, একমাত্র বিজেপিই পঞ্জাবের সার্বিক উন্নয়ন করতে সক্ষম।

অন্যদিকে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য হরমিৎ এবং চেতন সিংকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপরই তাঁরা ইস্তফা দেন। আপের আবেদনের ভিত্তিতে পঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার কুলতার সিং সান্ধওয়া জানিয়েছেন, ৫ নভেম্বর উভয় বিধায়কের বক্তব্য ও যুক্তি শোনোর পরই তাঁদের সদস্যপদ বাতিল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *