“জেলে বন্দি হিন্দু শরণার্থীদের রেহাই আর সাথে নিজস্ব জমি!” ঠাকুরনগর থেকে কড়া মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর!

মতুয়া ধর্মাবলম্বীদের পরম তীর্থক্ষেত্র ঠাকুরনগরে আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে এক ঐতিহাসিক ও মেগা সামাজিক প্যাকজের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বহু বছর ধরে বাংলাদেশি বা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে আটকে থাকা হিন্দু শরণার্থী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের স্থায়ী পুনর্বাসন, নিজস্ব জমি ও বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
ঠাকুরবাড়িতে হরিমন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মতুয়া সম্মেলনের বিশাল মঞ্চ থেকে তাঁর এই বড়সড় ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মূলত দুটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ এই নতুন সরকারি কল্যাণমুখী সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছেন:
১. কারারুদ্ধ হিন্দু ও মতুয়া শরণার্থী: বিভিন্ন সময় সীমান্ত পেরিয়ে এসে সঠিক নথিপত্রের অভাবে অথবা অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে যারা বর্তমানে আইনি জটিলতায় ফেঁসে জেলে বন্দি রয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তায় মুক্তি প্রদান করা হবে। ২. নথিভুক্ত ও যোগ্য পরিবার: যে সমস্ত শরণার্থী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট স্থায়ী ঠিকানাহীনভাবে বসবাস করছেন, সিএএ (CAA) প্রক্রিয়ার আওতায় নাগরিকত্ব শংসাপত্র পাওয়ার পর তাঁদের মাথার ওপর ছাদ ও চাষের জন্য সরকারি খাস জমি বা আবাসন প্রকল্পের অধীনে নিজস্ব জমি-বাড়ি হস্তান্তর করা হবে।
জমি ও বাড়ি প্রদানের সম্পূর্ণ রূপরেখা
মতুয়া ও হিন্দু শরণার্থীদের সামাজিক পুনর্বাসনে জোর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে কেবল আইনি নাগরিকত্বই দেওয়া হবে না, বরং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জমি বরাদ্দ এবং সরকারি গৃহনির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে।
শরণার্থীদের সম্মানজনক জীবনযাপন সুনিশ্চিত করতে দ্রুত একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে জমি ও বাড়ি বণ্টনের এই কাজ ত্বরান্বিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঠাকুরবাড়ি ও মতুয়াদের জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ
মতুয়াদের ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে একাধিক বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শুভেন্দু অধিকারী। ঠাকুরনগরকে একটি উন্নত নগরাঞ্চলে রূপান্তরিত করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, হরি-গুরুচাঁদ ধামের সংরক্ষণ এবং মতুয়া মেলা বা বারুণী মেলার সময় পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য আধুনিক ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, ঠাকুরনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে হিন্দু শরণার্থী ও মতুয়া সমাজের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা মাস্টারপ্ল্যান বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিল।