এভিয়েশন খাতে বিরাট সিদ্ধান্ত! আকাশছোঁয়া বিমানের ভাড়ায় লাগাম টানতে মোদী সরকারের ঐতিহাসিক নিয়ম

অপরিশোধিত তেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে বিমানের টিকিটের দাম। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ বিমানযাত্রীদের স্বস্তি দিতে এবং এয়ারলাইন্সগুলির স্বেচ্ছাচারিতা রুখতে বিরাট পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে বিশেষ বা অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে বিমানের টিকিটের দাম ও ভাড়ার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে কেন্দ্র।
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের নয়া নির্দেশিকা
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের জারি করা সদ্য প্রণীত ‘ভারতীয় বায়ুযান নিয়ম, ২০২৬’ (Indian Aircraft Rules, 2026) অনুযায়ী, সরকার যদি মনে করে যে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন, তবে তারা বিমানসংস্থাগুলিকে ভাড়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারবে। তবে এই ধরনের নির্দেশিকা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
নতুন নিয়মের ১৯২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বিমান সংস্থাগুলিকে তাদের পরিচালনা খরচ (Operating Cost) ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে টিকিটের দাম নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সেই নির্ধারিত ভাড়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ অসামরিক বিমান পরিবহণের নিয়ামক সংস্থা ‘ডিজিসিএ’ (DGCA)-র কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভাড়া হেঁকে যাত্রীদের পকেট কাটা হচ্ছে বুঝলে সরকার লিখিত নির্দেশ জারি করে দাম বেঁধে দিতে পারবে।
টিকিটের ভাড়ায় আসবে একশো শতাংশ স্বচ্ছতা
যাত্রীদের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং ভাড়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিমান সংস্থাগুলিকে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দামের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এখন থেকে টিকিট বুকিংয়ের সময় যাত্রীদের ঠিক কত টাকা দিতে হবে, তার স্পষ্ট বিবরণ বুকিং প্রসেস ও ফাইনাল টিকিটের ওপর উল্লেখ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একইসঙ্গে মূল ভাড়া (Base Fare), ট্যাক্স, এয়ারপোর্ট ফি, ক্যানসেলেশন চার্জ ও রিফান্ডের শর্তাবলী আলাদা আলাদা করে দেখাতে হবে। সরকারকে দেওয়া ট্যাক্স এবং বিমান সংস্থার নিজস্ব চার্জের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখতে বলা হয়েছে।
৩২ বছরের পুরনো নিয়মে বড় পরিবর্তন
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ভারতে বিমানের ভাড়া নির্ধারণের ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছিল। এর পর থেকে বাজারের চাহিদা এবং যোগানের ওপর ভিত্তি করেই বিমান সংস্থাগুলি নিজের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে আসছিল। ‘এয়ারক্রাফট রুলস, ১৯৩৭’-এর আগেকার ধারায় অতিরিক্ত ভাড়া বা একচেটিয়া ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিসিএ-কে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হলেও, ২০২৬ সালের এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে ভাড়ার সিলিং বা নির্দেশিকা জারি করার চাবিকাঠি সরাসরি কেন্দ্রের হাতেই চলে এল।