নিজের পরিবারকে ফাঁসাতে ৮ মাসের শিশুকন্যাকে পাথরে আছড়ে খুন! রাজস্থানে বাবার নৃশংসতায় স্তম্ভিত পুলিশ

পারিবারিক কলহ এবং প্রতিশোধের আগুনে অন্ধ হয়ে নিজের আট মাসের নিষ্পাপ কন্যাসন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করল এক বাবা! নিজেকে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে এবং নিজেরই ভাইয়ের পরিবারকে খুনের মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই হাড়হিম করা চক্রান্ত গড়েছিলেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের কারৌলি জেলায়। অভিযুক্ত রামদেব জাটভকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর ভোরে রাজস্থানের হিন্দাউন শহরের খেদে কা পুরা এলাকার বাসিন্দা রামদেব জাটভ থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২৭ অক্টোবর রাতে তাঁর বড় ভাই রামচরণের তিন ছেলে—রামবীর, দীনদয়াল ও হীরালাল তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং পরিবারের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। মারামারির সময় রামবীর তাঁর ৮ মাসের কন্যাসন্তানের মাথায় সজোরে আঘাত করে, যার ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে ভরতপুর রেঞ্জের ডিআইজি প্রীতি চন্দ্র এবং পুলিশ সুপার লোকেশ সোনওয়ালের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়। কিন্তু এলাকা ঘুরে এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করতেই থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে।
তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার আগের রাতে রামদেব ও তাঁর স্ত্রী রেশমার মধ্যে চরম পারিবারিক বিবাদ হয়। রাগ করে রেশমা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেও স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাঁকে বুঝিয়ে ফেরত আনেন। পরদিন সকালে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা শুরু হলে ভাইপো রামবীর সেখানে গিয়ে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে রামদেবের সাথে রামবীরের বচসা বাধে।
পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, রামবীরকে চরম শিক্ষা দিতে এবং ভাইয়ের পরিবারকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে রামদেব নিজের আট মাসের কন্যাসন্তানকে ধরে পাথরের ওপর আছড়ে মারেন। সন্তান মারা যাওয়ার পরই সোজা থানায় গিয়ে ভাইপোদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। কিন্তু পুলিশের সূক্ষ্ম তদন্তে এই সাজানো নাটকের পর্দাফাঁস হয়ে যায়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৩১ অক্টোবর ঘাতক বাবা রামদেব জাটভকে গ্রেপ্তার করা হয়।