রাম মন্দিরে মেগা অনুদান কেলেঙ্কারি! শীর্ষ আদালতের বড় পদক্ষেপে ঘুম উড়ল প্রভাবশালীদের

অযোধ্যার ভব্য রাম মন্দিরে (Ram Mandir Donation Scam) দেশ-বিদেশের ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার দান, অলংকার ও অর্থ লোপাটের ঘটনায় শীর্ষ আদালত কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। তদন্তের নামে প্রভাবশালী কাউকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) কাছে জমা দেওয়া ৭৪ হাজার পাতার পুরো চার্জশিট তলব করেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে রাম মন্দিরের দানপাত্র থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অলংকার চুরির এই নজিরবিহীন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার পর থেকেই ট্রাস্টের প্রভাবশালীদের আড়াল করার অভিযোগে সরব হন বিরোধীরা। বিশেষ করে নিশানায় আসেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি তথা রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্র নির্মাণ ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই (Champat Rai)। তবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) আদালতে যে ৭৪ হাজার পাতার বিশাল চার্জশিট পেশ করেছে, তাতে চম্পত রাইকে সব ধরনের অভিযোগ থেকে ক্লিনচিট বা রেহাই দেওয়া হয়েছে।
সিটের তদন্তের ওপর ভিত্তি করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এ পর্যন্ত মন্দিরের ৮ জন সাধারণ কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের নামে বাজেয়াপ্ত করা বিপুল পরিমাণ আয় বহির্ভূত সম্পদকেই মূল প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সূত্রের সাহায্যে চুরির মোট ১০৭টি পৃথক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।
তবে সাধারণ কর্মচারীরা কর্তৃপক্ষের অজান্তে দিনের পর দিন এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির ছক চালাচ্ছিল—এই তথ্য মানতে নারাজ বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তদের একাংশ। সবচেয়ে বেশি সরব সমাজবাদী পার্টি (SP)। তাদের অভিযোগ, আসল অপরাধীদের বাঁচাতে যোগী সরকারের পুলিশ চুনোপুঁটিদের ধরে মূল পাণ্ডাদের আড়াল করছে। বিরোধীদের দাবি, অতীতে বহিরাগতরা ভারতে এসে মন্দির ধ্বংস করেছিল, আর এখন বিজেপির আমলে তৈরি মন্দিরের দানপাত্র লুঠ হচ্ছে।
এই বিশাল কেলেঙ্কারির পরেই রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের পরিচালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল ঘটানো হয়েছে। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে চম্পত রাই সরে দাঁড়ানোর পর দায়িত্ব নিয়েছেন স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজ। এছাড়া মন্দিরের সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রথম প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার প্রধান ধীরেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রথম সিইও (CEO) পদে বসানো হয়েছে। তবে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মহন্ত নৃত্যগোপাল দাস এবং মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান নৃপেন্দ্র মিশ্র এখনও নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। এখন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে এই হাইপ্রোফাইল মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।