হ্যালোউইনের আনন্দ নিমেষে ছারখার! আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বন্দুকবাজের তান্ডবে মৃত অন্তত ৬, আহত বহু

হ্যালোউইন উৎসবের আনন্দ এবং উল্লাস মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল গভীর বিষাদ ও তীব্র আতঙ্কে। গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত আমেরিকার একাধিক শহরে নাইটলাইফ এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং জনবহুল দোকানগুলিতে পরপর বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ তাণ্ডবে অন্তত ছ’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সেই সঙ্গে গুরুতর জখম হয়েছেন আরও বারো থেকে পনেরো জন মানুষ।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ও ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরে। শহরের অত্যন্ত জনপ্রিয় নাইটলাইফ এলাকা ডিপ এলামে পরপর কয়েকটি গুলি চালানোর ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫ জন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার রাতে মাত্র এক ঘণ্টা পনেরো মিনিটের মধ্যে ওই এলাকায় তিনটি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলাগুলির নেপথ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্যান্য এলাকাগুলির অবস্থাও ছিল বেশ উদ্বেগজনক। আলাবামার বার্মিংহামে একটি ফুটবল ম্যাচের পর স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী অঞ্চলে দুটি গুলির লড়াইয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ডেলাওয়্যারের নিউয়ার্কে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় গুলিবর্ষণে ছয়জন জখম হয়েছেন। ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে গুলিতে উনিশ বছরের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন। অন্যদিকে, আরকানসাসের ফায়েটভিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরের কাছেও গুলির ঘটনায় ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুধু নাইটলাইফ বা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরই নয়, গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়া ও মিশিগানের দুটি দোকানেও অতর্কিত গুলির ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ডে এক মহিলাসহ দুটি পৃথক ঘটনায় দু’জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। ফেয়ারফিল্ডের ওই ঘটনাগুলিতে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসে একুশ বছরের এক তরুণ যুবক গুলিতে নিহত হয়েছেন।

একের পর এক এমন হিংসাত্মক ঘটনায় আমেরিকার বিভিন্ন শহরে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কয়েকটি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের আটক করা সম্ভব হলেও বেশ কিছু হামলার নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেন বারবার এই ধরনের হামলা ঘটছে এবং এর আসল উদ্দেশ্য কী, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় গোয়েন্দারা।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *