জমির দখল নিয়ে রণক্ষেত্র তেহট্ট! গুলি চলল প্রকাশ্যে, মহিলাসহ আহত ৮ জনের বেশি

জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পুরনো বিবাদের জেরে রবিবার সকালে একপ্রকার রণক্ষেত্রের রূপ নিল নদীয়ার তেহট্টের হোগলবেড়িয়া থানার কালিয়াগাঙ্গি গ্রাম। জমিতে চাষাবাদ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চলা তুমুল সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মারধরের পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা এবং এমনকি প্রকাশ্যে গুলি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় নারী ও পুরুষ উভয় পক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজনের বেশি মানুষ গুরুতর জহম হয়েছেন।

কী নিয়ে এই বিরোধ?

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, কালিয়াগাঙ্গি গ্রামে প্রায় ১২ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আইনি ও অনানুষ্ঠানিক বিবাদ চলে আসছে। বর্তমানে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগ, সেই অমীমাংসিত জমিটি জবরদস্তি পুনরুদ্ধার করে সেখানে চাষাবাদ শুরু করাকে কেন্দ্র করেই রবিবার সকালে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সকালের সংঘর্ষ ও গুলির অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালেই এক পক্ষের লোকজন ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষের কাজ করতে গেলে অপর পক্ষের লোকজন তাতে বাধা দেয়। প্রাথমিক কথা কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যে চরমে পৌঁছে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ ওঠে, দু’পক্ষই লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে প্রকাশ্যে গুলি পর্যন্ত চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন আক্রান্তরা।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

তদন্তে প্রশাসন

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জমির চাষ করতে যাওয়া পক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ বৈধ আইনি নথিপত্র রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা কালিয়াগাঙ্গি গ্রামে থমথমে পরিবেশ ও ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির দখল ও মালিকানার লড়াইয়ে ঠিক কী কারণে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটল এবং গুলি চালানোর অভিযোগের পেছনে আসল সত্যতা কী, তা খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে হোগলবেড়িয়া থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *