‘মাটি খুঁড়ে বের করে জেলে পুরব!’ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চরম হুঙ্কার খাড়্গের, রামলীলায় তোলপাড়!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে (Ramlila Maidan) আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের (India Alliance) মহাসমাবেশ থেকে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আক্ষরিক অর্থেই তুলোধোনা করলেন কংগ্রেস (Congress) সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge) এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
রবিবার খাড়্গে সাফ জানিয়ে দেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন একচুলও থামবে না। এমনকি অভিযুক্ত কমিশনার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকলেও তাঁকে খুঁজে বার করে শাস্তি দেওয়া হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দেন কংগ্রেস প্রধান।
‘মোদী-শাহ পরিকল্পিতভাবে ভোট চুরি করছেন!’ খাড়্গের ফুঁসে ওঠা
রামলীলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
কংগ্রেস সভাপতির তোপ:
-
ভোট চুরির অভিযোগ: দেশের মহিলা, তরুণ এবং বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায়ের ভোট পরিকল্পিতভাবে চুরি করা হচ্ছে।
-
কমিশনকে হাতের পুতুল: নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা হচ্ছে।
-
সংগ্রামের হুঙ্কার: “যতক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন, আমাদের এই লড়াই জারি থাকবে। উনি যদি পালিয়েও যান, প্রয়োজনে মাটি খুঁড়ে তাঁকে বার করে আনব। এটাই দেশের সাধারণ মানুষ, নারী ও যুবশক্তির আসল ক্ষমতা!”
‘জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর পর পরবর্তী টার্গেট আপনারা!’
খাড়্গের পর একই মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও সিইসি-কে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে লাখ লাখ নাম বাদ দেওয়া এবং ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ তুলে রাহুল দাবি করেন, “নির্বাচন কমিশন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়া নরেন্দ্র মোদী কোনোদিনই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।”
মোদী ও শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে রাহুল হুঁশিয়ারি দেন:
“জ্ঞানেশ কুমারকে প্রথমে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সোজা জেলে পাঠানো হবে। আর ঠিক তার পরেই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবেন আপনারা (মোদী ও শাহ)!”
অগ্নিগর্ভ জাতীয় রাজনীতির ময়দান
দিল্লির রামলীলা ময়দানে রবিবারের এই সুবিশাল বিরোধী সমাবেশ এবং শীর্ষ নেতাদের এই আগ্রাসী যৌথ হুঙ্কার জাতীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব শাসকদল বিজেপি কীভাবে দেয়, এখন সে দিকেই নজর গোটা দেশের।