“একটাকেও ছাড়ব না, সব কেস রিওপেন হবে!”-বামেদের বিরুদ্ধে মারাত্মক বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

বাম আমলের পুরোনো দিনের নানা বিতর্কিত ও হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও সভা’র মঞ্চ থেকে এক সময়ের শাসকদলের একের পর এক শীর্ষ নেতাকে নিশানা করে মেদিনীপুর জুড়ে তোলপাড় ফেলা বক্তব্য রাখেন তিনি। বামেদের তথাকথিত ‘অপরাধের ফাইল’ পুনরায় খোলার ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সব কেস রিওপেন করব। একটাকেও ছাড়ব না।”

তপন ঘোষ ও কঙ্কাল-কাণ্ডের নায়কদের জেলে পোরার নির্দেশ

বাম আমলের বহুল চর্চিত ছোট আঙারিয়া গণহত্যা এবং নন্দীগ্রাম পর্বের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী আক্রমণ শানান সেই সময়ের প্রভাবশালী সিপিএম নেতা তপন ঘোষ ও শুকুর আলির ওপর। মঞ্চ থেকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “ওরা বলেছিল শুভেন্দু অধিকারী ঢুকলে পা ভেঙে দেবে। কিন্তু তার তিন দিনের মধ্যেই আমি সেখানে সভা করে দেখিয়েছি।”

এরপর সরাসরি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের (SP) উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তপন কোথায়?” একইসঙ্গে প্রাক্তন বাম নেতা সুশান্ত ঘোষকে ‘কঙ্কাল কাণ্ডের নায়ক’ বলে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, “কঙ্কাল-কাণ্ডের নায়ক কোথায় গেলেন? এসপি-কে বলছি, আমি এঁদের সবাইকে জেলে দেখতে চাই।”

“যাহা তৃণমূল তাহাই সিপিএম, হিসাব এবার হবেই”

এদিনের সভা থেকে রাজ্য রাজনীতির দুই বিরোধী শক্তি তৃণমূল ও সিপিএম-কে একই বন্ধনীতে দাঁড় করান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “এখন যাহা তৃণমূল তাহাই সিপিএম। এই দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে রাজ্যে নৈরাজ্য তৈরি করতে চাইছে।”

নন্দীগ্রাম ও কেশপুরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ইতিহাস মনে করিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০০১ সালে কেশপুরে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা হোক কিংবা ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের নির্মম ঘটনা—সব ইতিহাসই তাঁদের মনে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া সুরে বলেন, “কেশপুরেও একই জিনিস হয়েছিল। এবার সব পুরনো হিসেব চুকিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। আমরা কোনো ঘটনাই ভুলে যাইনি।”

গড়বেতার এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এমন কড়া বার্তা মেদিনীপুর তো বটেই, গোটা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *