এক ধাক্কায় বিপুল আর্থিক লোকসান! ক্ষতি সামলাতে বড় ঘোষণা ইন্ডিগো সিইও-র, পকেটে টান সাধারণ মানুষের

বিমানযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের খবর। বাড়তে চলেছে ইন্ডিগো (IndiGo) বিমানের টিকিটের দাম। গত ত্রৈমাসিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখ দেখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আন্তর্জাতিক কারণে বিমানের জ্বালানির (ATF) লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলেই টিকিটের ভাড়া বাড়ানোর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে দেশের বৃহত্তম এই উড়ান সংস্থা।
সংস্থার নবনিযুক্ত সিইও উইলি ওয়ালশ (Willie Walsh) একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত ইঙ্গিত দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, জ্বালানির অস্বাভাবিক খরচের ধাক্কা সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া আপাতত তাঁদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। তবে সাধারণ যাত্রীদের উপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেকথা মাথায় রেখে ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ যতটা সম্ভব কম ও সীমিত রাখার চেষ্টা চালানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক হিসেব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ইন্ডিগোর অভিভাবক সংস্থা ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশনের (InterGlobe Aviation) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৮৭৯.১ কোটি টাকা। যদিও বিগত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ২,৫৮২.১ কোটি টাকা। তথ্য বলছে, এই ত্রৈমাসিকে ইন্ডিগোর মোট আয় বেড়ে ২৪,৩১১.৯ কোটি টাকা হলেও, খরচের ঊর্ধ্বগতির কারণে লাভের মুখ দেখা সম্ভব হয়নি।
সংস্থার মোট খরচের মধ্যে বিমানের জ্বালানির খরচই এক ধাক্কায় প্রায় ৬৭.২ শতাংশ বেড়ে ৯,৯৬৬.৮ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্যহ্রাসের কারণেই জ্বালানির বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সিইও উইলি ওয়ালশ আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ইন্ডিগোর হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা ‘ক্যাশ রিজার্ভ’ রয়েছে। যার ফলে প্রতিযোগী সংস্থাগুলির তুলনায় তারা বেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই সংস্থাটি এখনই কর্মী ছাঁটাই বা বড়সড় খরচ কাটছাঁটের পথে হাঁটবে না। তবে টিকিটের দাম যে বাড়ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সংকেত দিয়ে দিয়েছেন ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ।