OCI কার্ড বাতিল, দেশ ছাড়ার নির্দেশ! বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতেই মামলায় নাটকে মোড়

ভারতে কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ ৪২টি বছর। এই দেশেই তাঁর সংসার, এখানেই গড়ে উঠেছে পেশাগত সাফল্য ও পরিচিতি। অথচ সেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ পেতেই আইনি লড়াইয়ে নামলেন অভিনেতা ইমরান খান (Imran Khan)। ওয়ান ডিরেকশন থেকে শুরু করে তাঁর ওভারসিজ সিটিজেনশিপ অফ ইন্ডিয়া (OCI) কার্ড বাতিলের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই মুহূর্তে বড়সড় উদ্বেগের মুখে তারকা। তবে হাত গুটিয়ে না বসে, কিসের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা জারি করা হলো, তার স্পষ্ট প্রমাণ চেয়ে সরাসরি কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আপাতত বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court) উক্ত নোটিসের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন অভিনেতা।

প্রমাণের আর্জি ও স্বচ্ছতার দাবি

গত ২২ অক্টোবর বিদেশি নাগরিকদের নথিভুক্তিকরণের দায়িত্বে থাকা দফতরকে (FRRO) একটি চিঠি পাঠান ইমরান খান। চিঠিতে তিনি জানান, গত ১৭ অক্টোবর তাঁকে একটি শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল, যেখানে মুম্বই পুলিশের জমার ভিত্তিতে কিছু গোপন নথি ও রিপোর্টের উল্লেখ করা হয়।

ইমরানের অভিযোগ, যে নথি ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তাঁর বিরুদ্ধে এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলির একটি কপিও তাঁকে দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত পক্ষ হিসেবে পুলিশের পেশ করা নথিপত্র না দেখে বা না জেনে কীসের ভিত্তিতে তোলা অভিযোগের জবাব দেবেন তিনি? এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমস্ত নথি তাঁর সামনে পেশ করার দাবি জানিয়েছেন অভিনেতা।

ন্যায্য সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ

ইমরানের দাবি, নোটিসে তাঁর বিষয়ে যেসব তথ্যের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলি অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর। এমনকী কোনো এফআইআর (FIR) দায়েরের ক্ষেত্রে তাঁর নিজের বক্তব্য নথিভুক্ত করার প্রয়োজন মনে করেনি মুম্বই পুলিশ। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য ন্যূনতম ন্যায্য সুযোগ না দিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

নোটিসের ভেতরে উল্লেখ করা কারণগুলিকে অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী আখ্যা দিয়ে অভিনেতা জানান, ৪২ বছর ধরে এ দেশে বসবাস করার পর হঠাৎ কোনো ভিত্তিহীন রিপোর্টের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। আপাতত বম্বে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের ফলে মামলাটির আইনি জল কত দূর গড়ায়, সেদিকেই নজর দেশের বিনোদন জগতের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *