পঞ্জাব বিধানসভায় ধুন্ধুমার! অধিবেশন কক্ষে ঢুকতে বাধা, হাতাহাতি থেকে শেষমেশ ঝাড়ুতে আগুন!

পঞ্জাব বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনের শেষ দিনে রূপ নিল রণক্ষেত্রের। মঙ্গলবারে বিধানসভা চত্বরের ভেতরে ও বাইরে শাসকদল আম আদমি পার্টি (AAP) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়কদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা, স্লোগান এবং হাতাহাতি। বরখাস্ত হওয়া কংগ্রেস বিধায়ককে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে মদের বোতল হাতে বিজেপি নেতার উপস্থিতি— সব মিলিয়ে পঞ্জাব রাজনীতির পারদ এখন চরম চূড়ায়।
ঘটনার সূত্রপাত ও মহিলা মার্শাল বিতর্ক
পুরো অশান্তির সূত্রপাত ঘটে যখন বিধানসভার অধিবেশন থেকে বরখাস্ত হওয়া কংগ্রেস বিধায়ক সুখপাল সিং খাইরা অন্য দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে জোর করে কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পঞ্জাব পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের বিধানসভার মূল গেটেই আটকে দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস বিধায়করা।
বিরোধী দলনেতা প্রতাপ সিং বাজওয়ার মারাত্মক অভিযোগ, কংগ্রেস বিধায়কদের আটকানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে সামনে ‘মহিলা মার্শাল’ মোতায়েন করা হয়েছিল। বাজওয়ার দাবি, “আমাদের ইচ্ছা করেই আটকানো হয়েছে। মহিলা মার্শালদের সামনে রাখা হয়েছিল যাতে কংগ্রেস বিধায়কদের ওপর মহিলাদের অসম্মান করার ভুয়া অভিযোগ আনা যায়।”
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ধাক্কাধাক্কি ও আপ-এর হস্তক্ষেপ
অধিবেশন বয়কট ও ওয়াকআউট করে কংগ্রেস বিধায়করা যখন বিধানসভা চত্বরে বসানো মিডিয়া পোডিয়ামে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরখাস্ত বিধায়ক সুখপাল খাইরা, বিরোধী দলনেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া ও পঞ্জাব কংগ্রেসের সভাপতি পরগট সিং বক্তব্য রাখার সময় আচমকাই আপ-এর মহিলা বিধায়ক সরবজীত কৌর মানুকে সেখানে এসে বাধা দেন। দুই পক্ষের বিধায়কদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সুখপাল সিং খাইরাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিল পঞ্জাব কংগ্রেস।
ঝাড়ুতে আগুন ও মুখ্যমন্ত্রী মান-এর পদত্যাগের দাবি
উত্তেজনার এক চরম পর্যায়ে কংগ্রেস বিধায়করা বিধানসভা চত্বরেই আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ‘ঝাড়ু’-তে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখান। গলায় কালো কাপড় ও হাতে পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভকারী বিধায়করা অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতার কারণেই আজ পঞ্জাবে মাদক ব্যবসা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে। পঞ্জাবের প্রধান সমস্যা নিয়ে আলোচনায় মান সরকার ভয় পাচ্ছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান-এর ইস্তফা চান তাঁরা।
মদের বোতল হাতে বিজেপি নেতার চমকপ্রদ নাটক!
বিধানসভার বাইরে যখন এই ধুন্ধুমার কাণ্ড চলছে, ঠিক তখনই সেখানে তৈরি হয় আরও এক নাটকীয় পরিবেশ। হাত ভর্তি এক দামী বিদেশি মদের বোতল নিয়ে বিধানসভার বাইরে হাজির হন বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টু।
সংবাদমাধ্যমের সামনে বিট্টু দাবি করেন, “আমি প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিলাম। সেখানে জানতে পারি মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় আছেন। তাই ফ্রান্সের এই দামী মদের বোতলটি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে উপহার দেওয়ার জন্য এখানে এসেছি।” তবে নিরাপত্তার খাতিরে বিজেপি নেতাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।
সব মিলিয়ে, বিধানসভার শেষ দিনে শাসক-বিরোধী তরজা এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটকে তোলপাড় গোটা পঞ্জাব রাজনীতি।