ইউপি-তে মাত্র ৬ আসনে নামছে কংগ্রেস? রামগোপাল যাদবের জাদুকরী ফর্মুলায় সমাজবাদী পার্টিতে তীব্র জল্পনা!

(উত্তরপ্রদেশ)-এ আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সমাজবাদী পার্টি (সপা) এবং কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে জলঘোলা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সম্প্রতি লখনউতে কংগ্রেস কার্যালয়ের বাইরে একটি বিতর্কিত পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। ওই পোস্টারে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ২০০টি আসনের দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব তড়িঘড়ি সেই পোস্টারের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক অস্বীকার করে সেটিকে খারিজ করে দেয়। তবে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছে, কংগ্রেস এবার সপা-র কাছে ১৭০টিরও বেশি আসন দাবি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই চরম টানাটানির মাঝেই সপা-র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রামগোপাল যাদব জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ ‘ফর্মুলা’ সামনে এনেছেন, যা রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।
১৫ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ও রামগোপালের ফর্মুলা
ফিরোজাবাদে এক সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে রামগোপাল যাদব স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৯২ সালে আমাদের সঙ্গে বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল। মান্যবর কাংশী রামজি এবং আমি মাত্র ১৫ মিনিটে ৪২৫টি আসনের ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ফেলেছিলাম। কাংশী রামজি সেদিন স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করেছিলেন— বিগত নির্বাচনে যে দল যে আসনে বেশি ভোট পেয়েছে, সেই আসনটি তাদের পাওনা। আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং নীতিও ঠিক এটাই।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “কংগ্রেস ও সপা-র মধ্যে চূড়ান্ত আসন বণ্টন করবেন অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। মাঝখান থেকে কে কী মন্তব্য করে নিজের নাম উজ্জ্বল করতে চাইছে, তার কোনো মূল্য নেই। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সপা ও কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়াই করেছিল। ফলে আমার নীতি অনুযায়ী, সেই নির্বাচনে যে বিধানসভা কেন্দ্রে যে দল বেশি ভোট পেয়েছিল, সেই আসনটি তাদেরই পাওয়া উচিত।”
এই ফর্মুলায় কংগ্রেসের ঝুলিতে মাত্র ৬টি আসন?
রামগোপাল যাদবের এই ফর্মুলা যদি হুবহু কার্যকর করা হয়, তবে অখিলেশ শিবিরের এই সমীকরণে কংগ্রেসের হাতে আসবে মাত্র ৬টি আসন!
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ইউপি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৪০৩টি আসনের মধ্যে ৩৯৯টিতে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কিন্তু জয় এসেছিল মাত্র ২টিতে (রামপুর খাস থেকে আরাধনা মিশ্র মোনা এবং ফারেন্দা থেকে বীরেন্দ্র চৌধুরী)। এ ছাড়া মথুরা, খেরা গড়, জগদীশপুর এবং কিদওয়াই নগর— এই ৪টি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরা দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ফলে বিগত ফলাফলের নিরিখে হিসেব কষলে কংগ্রেসের দাবি কেবল এই ৬টি আসনেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
আরএলডি ও সুভাসপা-র খালি হওয়া আসনে বিকল্প সমীকরণ
২২-এর নির্বাচনে সপা ৩৪৭টি আসনে লড়াই করেছিল। বাকি আসনগুলোর মধ্যে তাদের তৎকালীন জোটসঙ্গী রাষ্ট্রীয় লোকদল (RLD) ৩৩টিতে লড়ে ৮টি এবং ওম প্রকাশ রাজভরের সুভাসপা ১৯টিতে লড়ে ৬টিতে জয়ী হয়েছিল। বর্তমানে এই দুই দলই সপা-র হাত ছেড়ে এনডিএ (NDA) জোটে শামিল হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শরিকদের ছেড়ে যাওয়া ৫২টি আসন এবং কংগ্রেসের নিজস্ব ৬টি আসন মিলিয়ে মোট ৫৮টি আসন তৈরি হয়। সূত্র মারফত খবর, সপা নেতৃত্বও কংগ্রেসকে ৫০ থেকে ৬০টির মতো আসন ছেড়ে নিজেরা ৩৫০টির কাছাকাছি আসনে লড়াই করার মেজাজে রয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনে কি এই নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল?
তবে ইতিহাস বলছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সপা কিন্তু রামগোপাল যাদবের এই নীতি কঠোরভাবে মেনে চলেনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে কংগ্রেস ৬৭টি আসনে লড়ে মাত্র ১টিতে জয়ী (রায়বেরেলি) এবং ৩টিতে (আমমেঠি, কানপুর ও ফতেহপুর সিকরি) দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিল। সেই হিসেব অনুযায়ী ২০২৪-এ কংগ্রেসের মাত্র ৪টি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও অখিলেশ যাদব বড় মন দেখিয়ে কংগ্রেসকে ১৭টি আসন ছেড়েছিলেন।
এখন দেখার বিষয়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রামগোপাল যাদবের এই কঠোর নিয়মেই সপা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, নাকি কংগ্রেসের সঙ্গে দরকষাকষিতে ফের নতুন কোনো নমনীয় সমঝোতায় পৌঁছায় দু’দল।