‘স্যার, এত অল্প আয়ে বাইক কীভাবে কিনব?’ ব্লিনকিট কর্মীর সেই কান্না আজ রূপ নিল হাসিতে!

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে একটি বাইক কেনার সামর্থ্যও ছিল না ‘ব্লিনকিট’ (Blinkit)-এর এক গরিব ডেলিভারি কর্মীর। সাইকেলে করে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাড়ি বাড়ি অর্ডার পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল। কিন্তু মুম্বইয়ের এক সমাজসেবী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হুসেন মানসুরি যখন হঠাৎই ওই ডেলিভারি কর্মীর হাতে তুলে দিলেন একটি ঝকঝকে নতুন স্কুটার, তখন আনন্দে ও কৃতজ্ঞতায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সেই যুবক। সুজিত নামের ওই কর্মীর আবেগঘন কান্নার ভিডিওটি এখন ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর এই গোটা চমকটি দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট শিল্পপতি অনন্ত আম্বানির ফাউন্ডেশনের একটি বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই হৃদয়স্পর্শী ভিডিওটিতে দেখা যায়, সুজিৎ যখন সাইকেলে চড়ে ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ইনফ্লুয়েন্সার হুসেন মানসুরি তাঁকে থামান। তাঁর নাম ও পেশার কথা শোনার পর মানসুরি প্রশ্ন করেন, কেন তিনি একটি বাইক বা স্কুটার কিনে নিচ্ছেন না? জবাবে অত্যন্ত সাধারণ সুজিৎ তাঁর চরম আর্থিক অনটনের কথা তুলে ধরে বলেন, “স্যার, এত অল্প আয়ে বাইক কীভাবে কিনব? সবকিছুর দাম তো এখন আকাশছোঁয়া।”
এরপর মানসুরি সুজিতকে তাঁর বর্তমান ডেলিভারি কাজ দ্রুত শেষ করে ওই স্থানেই ফিরে আসার অনুরোধ করেন এবং তাঁকে একটি বিশেষ চমক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কথামতো সুজিৎ ফিরে আসার পর মানসুরি তাঁর চোখ একটি লাল কাপড় দিয়ে বেঁধে দেন এবং তাঁকে একটি ঢাকা দেওয়া উপহারের সামনে নিয়ে যান।
মুখের ওপর থেকে সেই লাল কাপড় সরাতেই সুজিতের সামনে আসে একটি ব্র্যান্ড নিউ বৈদ্যুতিক স্কুটার। উপহারের ওপর থেকে কাপড় সরানোর সময় মানসুরি জানান, “অনন্ত আম্বানিজির পক্ষ থেকে এটি আপনার জন্য একটি ছোট্ট উপহার।” নিজের চোখে নতুন স্কুটার দেখার পর বিশ্বাসই করতে পারেননি সুজিৎ। তিনি সোজা মানসুরিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগ সামলে শুধু এটুকু বলতে পেরেছিলেন, “ধন্যবাদ স্যার।”
আম্বানি ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপহারটি মূলত ‘অনন্ত সেবা ফাউন্ডেশন’-এর একটি কল্যাণকর উদ্যোগের অংশ। রাহুল কানাল ও হুসেন মানসুরির যৌথ সহযোগিতায় এই ফাউন্ডেশন মুম্বই শহরের কঠোর পরিশ্রমী ও প্রান্তিক বাসিন্দাদের মাঝে বৈদ্যুতিক বাইক ও স্কুটার বিতরণ করছে, যাঁরা প্রতিদিন তীব্র গরমেও শহরটিকে সচল রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হওয়ার পরই ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। এখনও পর্যন্ত এটি ৪ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে এবং অজস্র নেটিজেন এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। হুসেন মানসুরি এর আগেও বিভিন্ন দাতব্য ও সমাজসেবামূলক কাজের ভিডিও শেয়ার করার জন্য সুপরিচিত। অতীতে তিনি আসামের বন্যাদুর্গত এলাকাতেও নিজে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মাঝে ত্রাণ ও বিছানা বিতরণ করেছিলেন।