আপনি যে মিষ্টিটা খাচ্ছেন সেটা আসল তো? দিল্লি জুড়ে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের মেগা ডিজিটাল স্ট্রাইক!

আসন্ন দীপাবলি ও উৎসবের মরশুমে আমজনতার স্বাস্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ দিল্লি সরকার। সাধারণ মানুষের পাতে যাতে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ, নিরাপদ ও মানসম্মত মিষ্টি ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছায়, তা সুনিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু করেছে দিল্লির খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ (Food Safety Department)। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার কড়া নির্দেশিকার পরপরই খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা বিভিন্ন মিষ্টির কারখানা ও বাজারে একযোগে ঝোড়ো অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও নষ্ট খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, উৎসবের এই আনন্দের মরশুমে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দিল্লি সরকার বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরকে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে, সন্দেহভাজন স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে, ব্যাপক নমুনা পরীক্ষা করতে এবং যে কোনও ধরনের আইন লঙ্ঘনকারী ও ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্সহীন কারখানায় হানা ও ৯২২ কেজি ভেজাল খাদ্য ধ্বংস: খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর নিহাল বিহার এলাকার একটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও লাইসেন্সহীন রসগোল্লা তৈরির কারখানা এবং সংলগ্ন একাধিক মিষ্টির দোকানে সারপ্রাইজ রেইড চালানো হয়। সেখান থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি প্রায় ৪০২ কিলোগ্রাম ভেজাল রসগোল্লা ও মিষ্টি বাজেয়াপ্ত করে সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হয়।
এর পাশাপাশি, দিল্লির বিখ্যাত মোরি গেট খোয়া মান্ডিতে (Mori Gate Khoya Mandi) একটি পৃথক অভিযান চালায় দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিম। সেখান থেকে মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত প্রায় ৫২০ কিলোগ্রাম পচা ও কৃত্রিম উপায়ে তৈরি খোয়া ও ছানা উদ্ধার করে তা নষ্ট করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একদিনের অভিযানেই প্রায় ৯২২ কিলোগ্রাম ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য ধ্বংস করেছেন আধিকারিকরা।
অভিযান চালিয়ে কেবল খাদ্যসামগ্রী ধ্বংসই করা হয়নি, একাধিক দোকান ও কারখানা থেকে মিষ্টি ও খোয়ার রাসায়নিক নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে দোষী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে খাদ্য সুরক্ষা আইনে মারাত্মক ফৌজদারি মামলা রজু করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।