আর ভিনদেশি ব্র্যান্ড নয়! ২০২৮ সালের মধ্যেই মেক ইন ইন্ডিয়া ফোন কাঁপাবে বিশ্ব বাজার

বিশ্ব বাজারে অ্যাপল কিংবা স্যামসাংয়ের মতো বহুজাতিক সংস্থার সমকক্ষ হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছে ভারত। ২০২৮ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নিজস্ব ব্র্যান্ড এবং নিজস্ব নকশার স্মার্টফোন বিশ্বমঞ্চে হাজির করার আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট’-এ যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, দেশের মেধাকে কাজে লাগিয়ে খুব শীঘ্রই গ্লোবাল মার্কেটে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করবে ভারত।

নিজেদের প্রযুক্তিতে তৈরি হবে ফোন: সম্মেলনে মোবাইল তৈরির প্রযুক্তিগত জটিলতা বোঝাতে গিয়ে সঞ্চালকের হাত থেকে ফোন নিয়ে উদাহরণ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, একটি ফোনের সামান্য জায়গার ভেতরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, অ্যান্টেনা, প্রসেসর, ক্যামেরা মডিউল ও পাওয়ার ম্যানেজমেন্টের মতো অজস্র জটিল যন্ত্রাংশ নিখুঁতভাবে সমন্বয় করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য তিন বছর আগে ভারতীয় নকশাকারীদের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

মন্ত্রী জানান, সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দুটি ভারতীয় সংস্থা দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। এর মধ্যে একটি সংস্থার তৈরি উন্নতমানের নকশা আমেরিকার বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা পর্যন্ত নির্বাচন করেছে এবং মার্কিন গ্রাহকদের হাতে সেই ৫জি-প্লাস ফোন পৌঁছেও গিয়েছে। গত সাড়ে তিন বছরে ভারতীয় মেধার জোরেই এই প্রযুক্তি দেশেই গড়ে উঠেছে বলে জানান তিনি। এবার সমস্ত প্রযুক্তি, নকশা এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি দেশের মাটিতেই বজায় রেখে একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা হবে, যা বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত ফোনগুলোর সঙ্গে সরাসরি লড়বে।

পূর্বতন সরকারের নীতি নিয়ে আক্রমণ: দেশের উৎপাদন খাতের এই রূপান্তরের পেছনে পূর্বতন কংগ্রেস আমলের নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর দাবি, একসময়ে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণবাদী মানসিকতার কারণে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্র থমকে গিয়েছিল। তবে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প চালুর পরই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে।

আজ মোবাইল ও ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ট্রেনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিও সম্পূর্ণ দেশেই তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এক দশক আগেও ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির কথা যেখানে ভাবা যেত না, আজ তা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব আশাপ্রকাশ করেছেন, খুব শীঘ্রই এই ক্ষেত্র আরও এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *