“দিল্লির থেকে বিচার পাবেন না, লড়াই করুন…” বিতর্কিত মন্তব্য করে তোপের মুখে ফারুক, নামল বিজেপি!

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ফের অত্যন্ত বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে দিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC) সভাপতি ফারুক আবদুল্লা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি, সীমান্তপারের দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের প্রশংসায় সরব হলেন উপত্যকার এই প্রবীণ নেতা। তাঁর এই দাবির পর তীব্র আক্রোশে ফেটে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

পাকিস্তানে ভরসা, কেন্দ্রকে আক্রমণ: শনিবার উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লায় দলের একটি কর্মী সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ক্রমাগত ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। ফারুক বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সব আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে বলছেন যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি। বলা চলে, উনিই আমাদের রক্ষা করছেন। তা না হলে কেন্দ্রের (ভারতের) উদ্দেশ্য মোটেই ভালো নয়।”

এর পাশাপাশি দিল্লির দরবার থেকে কাশ্মীরের মানুষ কোনোদিন ন্যায়বিচার পাবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উপত্যকাবাসীকে নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াই করার উসকানি দিয়ে ফারুক আরও বলেন, “আপনারা দিল্লির কাছ থেকে কী আশা করেন? ওরা কি আপনাদের ন্যায়বিচার দেবে? নিজেদের পরিচয় ও অস্তিত্ব বাঁচাতে লড়াই করার সাহস দেখাতে হবে, তা না হলে সব মুছে যাবে।”

বিজেপির অল-আউট আক্রমণ: ফারুক আবদুল্লার এই বক্তব্যকে দেশের সংবিধান এবং জম্মু-কাশ্মীরের দেশপ্রেমিক মানুষের প্রতি চরম অপমান বলে আখ্যা দিয়েছে শাসকদল বিজেপি। ফারুককে কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আর পি সিং বলেন, “অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে পুরোপুরি একীভূত হয়েছে। আজ উপত্যকায় শান্তির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি পর্যটক আসছেন এবং সেখানকার অর্থনীতির দ্রুত উন্নতি ঘটছে।”

অন্যদিকে, বিজেপির জাতীয় পরিষদের সদস্য যামিনী শর্মা খোঁচা দিয়ে বলেন, “সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের কারণে কাশ্মীরে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে, তা কারও অজানা নয়। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল কনফারেন্স কার্যত পাকিস্তানের মুখপাত্র বা এজেন্টের মতো কথা বলছে।”

নতুন করে উত্তপ্ত উপত্যকার রাজনীতি: কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার, সার্বিক উন্নয়ন এবং কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা নিয়ে এমনিতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে। তার ওপর ফারুক আবদুল্লার এই “পাক প্রীতি” এবং উসকানিমূলক মন্তব্য বিতর্ককে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। জাতীয় নিরাপত্তা ও কাশ্মীর ইস্যুতে এই মন্তব্য এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *