“চিনা বাহিনী নিয়ম ভাঙলেই..?’-অরুণাচলে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা ভারতের

অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি (LAC) বরাবর ভারত ও চিনের মধ্যে ফের একবার উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত মিলল। সম্প্রতি ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (ITBP) ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর দাবি করেছিলেন যে, সীমান্তের একাধিক জায়গায় ভারত ও চিনা সেনার মধ্যে ‘হাওয়া গরম’ হয়ে রয়েছে এবং মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতেই এবার চিনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চিনা বাহিনী তাদের নির্ধারিত টহল পদ্ধতি থেকে সরে এলে এলএসি-র পরিস্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নতির জন্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা আগেও যেমন উল্লেখ করেছি, যখনই চিনা বাহিনী তাদের নির্ধারিত টহল পদ্ধতি থেকে সরে যায়, তখনই ভারত-চিন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি সময়ে সময়ে অশান্ত হয়ে ওঠে।” তিনি আরও জানান, এলএসি বরাবর অমীমাংসিত বিষয়গুলির দ্রুত সমাধান এবং যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশই কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও সুদৃঢ় করতে দুই দেশই পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বলে জানান রণধীর জয়সওয়াল। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইটিবিপি-র ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর জানিয়েছিলেন যে, গত কয়েক দিনে অরুণাচলের বেশ কিছু এলাকায় ভারত ও চিনা সেনার মধ্যে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তা এখনও বজায় রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কতটা সতর্ক থাকতে হচ্ছে বাহিনীকে। এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে উচ্চ পার্বত্য যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত আইটিবিপি-র ‘শৌর্য কমান্ডো’দের সাহসিকতা ও অসামান্য ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাহিনীর ডিজি।