ড্রাই ডে-তেও মত্ত অবস্থায় ড্রাইভিং! কলকাতার রাজপথে নামল পুলিশের চরম খাঁড়া

দুর্গাপুজোর আনন্দে ভাসছে তিলোত্তমা। কলকাতার নামীদামি মণ্ডপগুলিতে উপচে পড়ছে হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়। আর এই বাঁধভাঙা ভিড় সামলাতে গিয়ে একদিকে যেমন ট্র্যাফিক সামলাতে নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে কলকাতা পুলিশের, তেমনই শহরের নানা প্রান্ত থেকে উঠে আসছে একাধিক আইন লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর খবর। তবে উৎসবের আবহেও বিন্দুমাত্র শিথিলতা দেখায়নি প্রশাসন। মহাষ্টমীর রাতে রাজপথে বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে একযোগে চরম কড়া অবস্থান নিল লালবাজার।

ট্র্যাফিক আইন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাড়ি ও বাইক চালানোর অভিযোগে সোমবার অর্থাৎ মহাষ্টমীর রাতে কলকাতা শহরজুড়ে মোট ৭২৬টি মামলা রুজু করেছে পুলিশ। লালবাজার সূত্রের খবর, এই তালিকার মধ্যে প্রধানত রয়েছে বিনা হেলমেটে বাইক চালানো, একই বাইকে তিন বা তার বেশি সওয়ারি চাপানো, অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং মদ্যপ অবস্থায় স্টিয়ারিং হাতে নেওয়ার মতো একাধিক মারাত্মক অপরাধ। উৎসবের রাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ধরনের কড়া ট্র্যাফিক নজরদারি চালানো হয়।

মঙ্গলবার অর্থাৎ মহানবমীর সকালে লালবাজারের তরফে এই ট্র্যাফিক অভিযানের একটি সম্পূর্ণ খতিয়ান প্রকাশ করা হয়েছে। লালবাজারের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র অষ্টমীর দিনেই বিনা হেলমেটে মোটরবাইক চালানোর অপরাধে ২৩১ জনের বিরুদ্ধে আইনি মামলা হয়েছে। ট্রিপল রাইডিং বা এক বাইকে একাধিক আরোহী চাপিয়ে যাতায়াতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে ১৫৫টি। অন্যদিকে, জনবহুল রাজপথে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের জীবন বিপন্ন করার অপরাধে ৯০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, অষ্টমীর রাতে রাজ্যজুড়ে ‘ড্রাই ডে’ ঘোষণা করা সত্ত্বেও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ৮১ জনের বিরুদ্ধে কেস দায়ের করেছে পুলিশ। শহরের কোনো মদের দোকান, বার কিংবা পাবে রাত ১২টা পর্যন্ত মদ বিক্রির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, বেআইনিভাবে মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর হিড়িক কমেনি। তবে একইসঙ্গে লালবাজার জানিয়েছে, শহর থেকে কোনো বেআইনি মদ উদ্ধারের মতো ঘটনা ঘটেনি। ট্র্যাফিক আইন ভঙ্গের পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে নানা আইনি ধারায় এক রাতের মধ্যেই মোট ৬৭ জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার পুলিশ। উৎসবের বাকি দিনগুলিতেও এই ধরনের কঠোর নজরদারি জারি থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *