‘ভারত বাংলাদেশ বা ফ্রান্স নয়!’ দেশের বিক্ষোভে বিদেশি ষড়যন্ত্রের গন্ধ, বিরোধীদের কড়া আক্রমণ মোদীর মন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে চলা বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার আবহে এবার সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিক্ষোভকারীদের নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’ (X)-এ একটি পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া হিংসার মতোই ভারতেও অশান্তি সৃষ্টির গভীর চক্রান্ত চলছে। কিছু ভারত-বিরোধী গোষ্ঠী এবং নির্দিষ্ট কিছু রাজনীতিবিদ দেশের যুবসমাজকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

কী বলেছেন কিরেন রিজিজু? নিজের পোস্টে রিজিজু লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে যে হিংসা ঘটেছে এবং ফ্রান্সে যে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে, তা ভারতের বিরুদ্ধে একই ধরনের একটি চক্রান্ত। ভারত-বিরোধী গোষ্ঠী ও কিছু রাজনীতিবিদ যুবকদের উসকানি দিতে এবং আমাদের রাস্তায় হিংসা ছড়াতে ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু এই বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রের হোতারা ভুলে গেছে যে ভারত বাংলাদেশও নয়, ফ্রান্সও নয়। ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব, তা কেবল নির্বাচনের মাধ্যমেই, সোরোসের মাধ্যমে নয়।’

এই পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও ক্লিপও জুড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ওই ভিডিওতে বাংলাদেশের যুবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে নেহা বোরার একটি ক্লিপ, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের ‘শাসন পরিবর্তন’ সংক্রান্ত মন্তব্য এবং সাম্প্রতিক জুলাই-অগাস্ট মাসের বিভিন্ন বিক্ষোভের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ধারাবাহিক আক্রমণ ও সতর্কতা গত কয়েক দিন ধরেই ‘শাসন পরিবর্তন’ ও নৈরাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন কিরেন রিজিজু। গত ১৫ অক্টোবর এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, লড়াইয়ের রেখা ইতিমধ্যেই টানা হয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, একদিকে রয়েছে ‘নির্বোধ নকশালরা’ এবং অন্যদিকে ‘দেশপ্রেমী ভারতীয়রা’। এক পক্ষে যেমন ভারতীয় সংবিধানে বিশ্বাসী মানুষেরা রয়েছেন, তেমনই অন্য পক্ষে রয়েছে নৈরাজ্যবাদীরা। এই লড়াই মূলত ভারত-বিরোধী শক্তি বনাম দেশপ্রেমিক নাগরিকদের লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর গত ১৭ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামেও একই সুরে হুঙ্কার ছাড়েন রিজিজু। তিনি লেখেন, ‘তোমরা বড় “শাসন পরিবর্তন”পন্থীরা মন দিয়ে শোন, ভারত বাংলাদেশ নয়!’ তাঁর দাবি, দেশের যুবসমাজ সম্পূর্ণ সচেতন এবং তারা দেশকে ধ্বংস করার বদলে গড়ে তুলতে ব্যস্ত। যুবরা আজ খেলাধুলোয় পদক জয় থেকে শুরু করে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন, স্টার্টআপ, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রে নিজেদের মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছে। সব মিলিয়ে, দেশের অন্দরে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রিজিজুর এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *