১৯৫৩ সালের পর ইতিহাস বদলাল! চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও কীভাবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বড় চেয়ার পেল পাকিস্তান?

নিজের দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে যে দেশ প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের কোটি কোটি ডলার ঋণের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে, সেই পাকিস্তানই এবার পেতে চলে এক অবিশ্বাস্য ও বড় দায়িত্ব। ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বোর্ড অফ গভর্নরসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে পাকিস্তান। শুক্রবার দেশটির অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর ও ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এই প্রাপ্তির ফলে ১৯৫৩ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর ফের এই সম্মানজনক পদে ফিরছে ইসলামাবাদ।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ডব্লিউবিজি-আইএমএফ বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমা, যিনি বিশ্বব্যাংকে দেশটির গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এক নজরে মূল বিষয়গুলি:
-
বড় দায়িত্ব: ২০২৭ সালে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অফ গভর্নরসের সভাপতিত্ব করবে পাকিস্তান।
-
ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন: ১৯৫৩ সালের পর দীর্ঘ ৭৩ বছর বাদে এই প্রথম পাকিস্তানকে এই আন্তর্জাতিক দায়িত্ব দেওয়া হলো।
-
নতুন চেয়ারম্যান: পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমা পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
-
ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা: বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফ থেকে শত শত কোটি ডলারের আর্থিক সাহায্য ও বেলআউট প্যাকেজের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
পাকিস্তানের জন্য এক নতুন অধ্যায়
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই নিয়োগকে দেশটির জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এই বিশ্বমানের দায়িত্ব পাকিস্তানকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ, উন্নয়নমূলক আলোচনা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দেবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফ-এর দুটি বড় অর্থায়ন কর্মসূচির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে ৭ বিলিয়ন ডলারের এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং ১.৪ বিলিয়ন ডলারের রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)। এমন এক করুণ অর্থনৈতিক দশার মধ্যে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে পাকিস্তানের এই আসীন হওয়া বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ময়দানে এক অভাবনীয় মোড় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।