আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন? দ্বাদশের পর এভিয়েশন ও স্পেস টেকনোলজিতে বিটেক করে লাখ টাকার চাকরি পাওয়ার সেরা সুযোগ!

বিমান, রকেট এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির প্রতি প্রবল কৌতূহল রয়েছে এমন তরুণ প্রজন্মের জন্য এয়ারোনটিক্যাল এবং অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং অত্যন্ত লাভজনক ও ভবিষ্যতের কেরিয়ার গড়ার দারুণ বিকল্প। উচ্চমাধ্যমিকে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং অঙ্ক বা পিচএম (PCM) নিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলিতে বিটেক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান। যদিও দুটি কোর্সেই মূলত বিমানের গঠনশৈলী, ইঞ্জিন এবং উড্ডয়ন সংক্রান্ত প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তর পড়ানো হয়, তবে এদের কাজের পরিধি ও বিস্তৃতিতে স্পষ্ট তফাত রয়েছে। এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত প্রচলিত বিমান ও হেলিকপ্টারের নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়, অন্যদিকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাপ্তি অনেক বেশি, যেখানে রকেট, মহাশূন্যযান এবং স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তিও সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠ্যক্রমে প্রধানত বিমান ও হেলিকপ্টারের ডিজাইন তৈরি, নির্মাণ পদ্ধতি, পরীক্ষামূলক যাচাই এবং রক্ষণাবেক্ষণের খুঁটিনাটি শেখানো হয়। এর মধ্যে অ্যারোডাইনামিক্স, এয়ারক্রাফট স্ট্রাকচার, শক্তিশালী ইঞ্জিন মেকানিজম, ফ্লাইট মেকানিক্স এবং মেটেরিয়াল সায়েন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে বোঝেন কীভাবে একটি বিশাল বিমান আকাশে ভেসে থাকে এবং তার সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে কোন কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিধি আরও ব্যাপক। এতে প্রচলিত বিমানের পাশাপাশি রকেট, মিসাইল, স্যাটেলাইট এবং স্পেসশিপের ডিজাইন ও প্রপালশন সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। মহাকাশ গবেষণা ও উপগ্রহ প্রযুক্তির প্রতি যাদের বিশেষ ঝোঁক রয়েছে, তাদের জন্য এই শাখাটি দারুণ আকর্ষণীয়।
এই ধরনের টেকনিক্যাল কোর্সে ভর্তির জন্য সাধারণত চার বছরের বিটেক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হয়। উচ্চমাধ্যমিকে পিচএম (PCM) থাকা আবশ্যিক এবং নামী প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা বা জেইই মেন (JEE Main) এবং জেইই অ্যাডভান্সড (JEE Advanced)-এর কড়া ধাপ পার করতে হয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন আইআইটি বোম্বে (IIT Bombay), আইআইটি মাদ্রাজ (IIT Madras), আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur), আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur), আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi), তিরুবনন্তপুরমের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IIST) এবং চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (PEC)-এ এই বিষয়ে পড়াশোনার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পর হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্যাল লিমিটেড বা এইচএএল (HAL), ইসরো (ISRO), ডিআরডিও (DRDO) এবং ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস ল্যাবরেটরিজ (NAL)-এর মতো দেশের প্রথম সারির সরকারি সংস্থায় কাজের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি উদীয়মান প্রাইভেট এভিয়েশন কোম্পানি এবং স্পেস-টেক স্টার্টআপগুলিতেও কেরিয়ার গড়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রার্থীরা অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার, প্রপালশন ইঞ্জিনিয়ার, ফ্লাইট টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার, এভিয়োনিক্স ইঞ্জিনিয়ার এবং রিসার্চ সায়েন্টিস্টের মতো সম্মানজনক পদে যোগ দিতে পারেন। এই ক্ষেত্রে এন্ট্রি-লেভেলে বা প্রাথমিক পর্যায়ে বার্ষিক ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া সম্ভব, যা পরবর্তীকালে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।