রং নয়, তবে কি রিল বানানোর জন্যই বিপত্তি? ফ্লাইওভারের বাইক দুর্ঘটনা নিয়ে বিরাট দাবি পুলিশ কমিশনারের!

বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়া, সদ্য করা রঙের জেরে স্লিপ করা, নাকি বাইক আরোহীদের মোবাইলে রিলস বানানো—চিংড়িহাটা ফ্লাইওভারে একের পর এক বাইক পড়ে যাওয়ার আসল কারণ কী? বুধবারের ঘটনার পর থেকে এই নিয়ে রাজ্যজুড়ে দানা বাঁধা জল্পনার কিছুটা অবসান ঘটিয়ে মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দা। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, ফ্লাইওভারে চলন্ত অবস্থায় কিছু লোক মোবাইলে রিল বা ভিডিও বানানোর চেষ্টা করছিলেন, যার জেরে বাইক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, ‘আমরা যে খবর পেয়েছি, ওখানে কিছু ভিডিও বানানোর চেষ্টা হচ্ছিল। গাড়ি চালাতে চালাতে রিল বা ভিডিও বানানো হয়। এই বিশেষ কারণের জন্যেও বাইক চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন।’

রং নিয়ে কী জানাল প্রশাসন? ফ্লাইওভারে নতুন রং লাগানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে—এই সম্ভাবনাকে প্রায় উড়িয়ে দিয়েছেন কমিশনার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘রঙের জন্যই বাইক পড়ে গিয়েছে, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। যাঁরা পেইন্ট করেছেন এবং ইঞ্জিনিয়াররা আমাদের জানিয়েছেন, ওই জায়গায় অ্যান্টি-স্কিড পেইন্ট (Anti-skid paint) বা পিছলে না যাওয়ার রংই লাগানো হয়েছিল। তাই সরাসরি বলা চলে না যে রঙের কারণেই এটি ঘটেছে।’

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, উড়ালপুলের ওই বিশেষ অংশটিতে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক (Sharp Bend) রয়েছে। এই ধরনের বাঁকে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে অনেক সময়ই গাড়ি স্কিড করে যেতে পারে।

সুরক্ষায় একাধিক বড় পদক্ষেপ দুর্ঘটনা এড়াতে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বুধবারের ঘটনার পর চিংড়িহাটা ফ্লাইওভারের ওই অংশে তড়িঘড়ি রোড স্টাডস বসানো হয়েছে এবং ‘গো স্লো’ সাইনেজও লাগিয়ে গাড়ির গতি কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে বৃষ্টি হলে যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই ফ্লাইওভার দিয়ে বাইক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কমিশনার। তবে গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারের ক্ষেত্রে এমন শার্প বেন্ড না থাকায় সেখানে এই ধরনের সমস্যার আশঙ্কা নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, এই পুরো বিতর্ক প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ‘বাংলার সাধারণ মানুষের কথাই আমাদের কাছে শেষ কথা। বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে এই সৌন্দর্যায়নের কাজ যদি মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে, তবে নাগরিকদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা তা খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। শহরকে সুন্দর করে তোলার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ চতুর্থী ও পঞ্চমীর আবহে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে এখন নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে শহরজুড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *