চিনকে বড় ধাক্কা! প্রথম বিদেশ সফরেই ভারতের হাত ধরছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ

চিনকে বড় ধাক্কা দিয়ে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরের জন্য দিল্লিকেই বেছে নিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। চলতি বছরের মার্চে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম কোনও দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর হতে চলেছে। চলতি বছরের নভেম্বরেই তাঁর এই ভারত সফরের জোরালো তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যদিও এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আমেরিকা গিয়েছিলে তিনি, তবে তা কোনও দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল না। তবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সেই মঞ্চেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভেঙে পড়া ব্যবস্থার বিপদ ও হুমকির বিষয়টি তীব্রভাবে তুলে ধরেছিলেন বালেন শাহ।

ঐতিহ্য ফিরিয়ে ভারতের দিকেই ঝুঁকলেন বালেন শাহ সাধারণত নেপালের প্রধানমন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতকে বেছে নেন, যা দীর্ঘদিনের এক কূটনৈতিক রীতি। তবে বিগত দিনে কে পি শর্মা ওলি বা পুষ্পকমল প্রচণ্ডের মতো কিছু নেতা সেই রীতি ভেঙে প্রথমে চিন বা অন্য দেশে গিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। সম্প্রতি কে পি শর্মা ওলিও প্রথম বিদেশ সফরে চিনকে বেছে নিয়েছিলেন। তবে সেই ধারা ভেঙে বালেন শাহ তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য নয়াদিল্লিকেই বেছে নেওয়ায় কূটনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।

ত্রাণ ও পুনর্গঠনে ভারতের সাহায্য, কৃতজ্ঞ কাঠমাণ্ডু গত আগস্ট মাসে নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলেছিল। সেই সময় ভারত যেভাবে ১৩০ টন ত্রাণসামগ্রী ও ৫৪ জন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি কাঠমাণ্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সফরে আসার আগে থেকেই দুই দেশের যৌথ প্রকল্পের তালিকা আদানপ্রদান চলছে।

কী থাকছে এই হাই-প্রোফাইল সফরের অ্যাজেন্ডায়? বালেন শাহের এই সফরে তাঁর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায় প্রতিনিধি দল আসার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও প্রবল। সম্ভাব্য উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে—

  • কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পূর্বে পানৌতিতে ভারতীয় অর্থসাহায্যে নির্মিত নেপাল পুলিশ অ্যাকাডেমি।

  • উত্তরপ্রদেশের সুনৌলি সীমান্ত সংলগ্ন ভৈরহাওয়ায় ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট।

  • পশ্চিম নেপালের দারচুলা জেলায় মহাকালী নদীর উপর নির্মিত সেতু।

পাশাপাশি, জলবিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনএইচপিসি (NHPC)-র সঙ্গে যুক্ত ৭৫০ মেগাওয়াটের ওয়েস্ট সেটি, ৪৮০ মেগাওয়াটের ফুকোট কর্নালি এবং ৪৫০ মেগাওয়াটের সেটি রিভার-৬ প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। এছাড়া সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত নেপালের অংশগুলিকে পুনরায় গড়ে তুলতে ভারতের কাছে আর্থিক ঋণ বা সহায়তার জোরালো আর্জিও জানাতে পারে কাঠমাণ্ডু।

যদিও দিল্লি বা কাঠমাণ্ডু—কোনো পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত এই সফরের চূড়ান্ত সরকারি দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবে নভেম্বরের এই সম্ভাব্য হাই-প্রোফাইল সফর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এখন থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *