চিকিৎসাবিজ্ঞানে তোলপাড়! মেক্সিকোতে জন্মাল ২ ইঞ্চি ‘লেজ’ সহ শিশু, সত্যতা সামনে আসতেই চঞ্চল বিজ্ঞানীরা

মেক্সিকো থেকে এক অদ্ভুত এবং বিরলতম ঘটনার খবর সামনে এসেছে, যা দেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন। সেখানে এক নবজাতক কন্যাসন্তান পিঠের নিচে একটি বিশেষ ধরনের ‘লেজ’ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। আপাতদৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত বিরল একটি কেস বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর-পূর্ব মেক্সিকোর একটি গ্রামীণ হাসপাতালে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক সম্পূর্ণ সুস্থ দম্পতির ঘরে সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে এই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের সময় শিশুটি শারীরিকভাবে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সুস্থ ছিল। তবে জন্মের ঠিক পরেই রুটিন পরীক্ষার সময় চিকিৎসকদের নজর যায় তার মেরুদণ্ডের নিচের অংশের দিকে। সেখানে তারা দেখতে পান যে, মেরুদণ্ডের শেষপ্রান্তে প্রায় ২ ইঞ্চি লম্বা একটি উপবৃদ্ধি বা লেজের মতো অংশ ঝুলছে, যার গায়ে হালকা চুলও গজিয়ে ছিল।
‘জার্নাল অব পেডিয়াট্রিক সার্জারি’-তে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞান প্রতিবেদনে এই বিরল ঘটনাটি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে যে, মানবদেহে জন্মগতভাবে লেজ থাকা অত্যন্ত বিরল এক শারীরিক অবস্থা। পুরো চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই ধরনের মাত্র ৪০টি কেস নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধরা পড়ে যে, শিশুটির এই লেজে কোনো হাড় ছিল না। এটি মূলত চর্বি এবং নার্ভ সংযোগকারী বিশেষ ধরনের টিস্যু দিয়ে তৈরি একটি অতিরিক্ত শারীরিক গঠন ছিল। লেজে সুঁচ ফোটাতেই শিশুটি কেঁদে উঠেছিল, যা থেকে প্রমাণ হয় যে এই গঠনে সংবেদনশীল নার্ভের কার্যকারিতা বজায় ছিল।
পরবর্তীকালে চিকিৎসকরা শিশুটির স্বাস্থ্য ও শারীরিক বৃদ্ধির ওপর ক্রমাগত কড়া নজর রাখতে শুরু করেন। শিশুটির বয়স যখন দুই মাস অতিক্রম করে, তখন দেখা যায় যে তার সাধারণ বৃদ্ধির সাথে সাথে ওই বিশেষ উপবৃদ্ধিটিও কিছুটা বেড়ে প্রায় ৫.৭ সেন্টিমিটার বা ২.২ ইঞ্চিতে পৌঁছেছে। এর পরেই অভিজ্ঞ সার্জনদের একটি দল একটি জটিল ও বিশেষ অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। সফল চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটির শরীর থেকে সেই বিরল অংশটি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয় এবং সেই স্থানের ত্বক পুনর্গঠন বা রি-কনস্ট্রাকশন সার্জারি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।