নোটার চাইল্ড পিজিআইতে চরম অব্যবস্থা! ইঞ্জেকশনে নিজেই ওষুধ ভরছেন বাবা, ভাইরাল ভিডিওতে শোরগোল

উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের নোডা সেক্টর-৩০ অবস্থিত নামী সরকারি হাসপাতাল ‘চাইল্ড পিজিআই’ (Child PGI)-এর জরুরি বিভাগ বা ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ফের একবার চরম অবহেলা ও অব্যবস্থার গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে একজন অসহায় পিতা নিজের অসুস্থ শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে নিজেই সিরিঞ্জে ওষুধ ভরছেন। চিকিৎসকদের এই মর্মে কোনো দেখা না মেলায় এবং নার্সিং স্টাফদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতালের চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ছপরৌলা গ্রামের বাসিন্দা এক ব্যক্তি তাঁর অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য চাইল্ড পিজিআই-এর ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে হাসপাতালের যে রূঢ় বাস্তব তিনি দেখতে পান, তাতে তাঁর চোখ কপালে ওঠে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, ওই বাবা নিজ হাতে সিরিঞ্জে ওষুধ টেনে তা প্রস্তুত করছেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখা গিয়েছে যে, ওষুধটির সঠিক ডোজ কী ছিল কিংবা ওই বাবা শেষ পর্যন্ত সন্তানকে সেই ওষুধ নিজে খাইয়েছিলেন কিনা এবং সেই মুহূর্তে দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বা নার্সরা ঠিক কোথায় ছিলেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পরই রোগীর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, নোডার এই চাইল্ড পিজিআই-এর ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের বেহাল দশা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। কখনো হাসপাতালের ছাদের ফল সিলিং থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে রোগীদের বিছানা ভিজিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, আবার কখনো মাঝপথেই ফল সিলিং ভেঙে রোগীদের ওপর খসে পড়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বারবার এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ভিডিও সামনে এলেও হাসপাতালের পদস্থ কর্তারা কেবল পরিকাঠামো উন্নত করার ফাঁকা প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেছেন। ফলস্বরূপ, বর্তমান এই নতুন ভাইরাল ভিডিওটি হাসপাতালের সুরক্ষা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে।

হাসপাতাল চত্বরে এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। চাইল্ড পিজিআই-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জোশনা মদন জানিয়েছেন যে, এই পুরো ভাইরাল ভিডিওটির উচ্চপর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই আসল ঘটনা কী ঘটেছিল এবং সংশ্লিষ্ট কোনো স্টাফের তরফে কোনো রকম গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কিনা, তা স্পষ্ট করা সম্ভব হবে। সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির জরুরি পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এই ধরনের ঘটনা গভীর আতঙ্ক ও আস্থার সংকট তৈরি করছে। অসুস্থ শিশুদের নিয়ে যখন অসহায় অভিভাবকরা হাসপাতালে ছুটে আসেন, তখন তাঁদের দ্রুত চিকিৎসাগত সহায়তা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনো অভিভাবককে নিজের হাতে ওষুধ প্রস্তুত করার মতো চরম পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যিক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *