‘দম থাকলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন!’ তিহাড়ে ধৃতদের সমর্থনে সরাসরি মোদিকে চ্যালেঞ্জ নেতার

দিল্লির যন্তরমন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জেরে গ্রেফতার হয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। আদালত তাঁদের ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ায় বর্তমানে তাঁরা তিহাড় জেলে বন্দি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। ধৃতদের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চরম চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে। মোদিকে ‘কাপুরুষ’ ও ‘স্বৈরাচারী’ বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল? এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। উত্তাল এই আবহেই যন্তরমন্তরে আন্দোলন করা যাবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যন্তরমন্তরে পৌঁছে যান সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক্য শিন্ডেরা। সেখানে তাঁরা জাতীয় পতাকা ওড়ান, যার পরেই পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে।

মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিজিতের: দলের দুই নেতার গ্রেফতারে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। মোদিকে নিশানা করে তিনি বলেন,

“সৌরভ এবং আশুতোষ জানত যে জেলে যেতে হতে পারে, তবুও ওরা তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য সেখানে গিয়েছিল। নরেন্দ্র মোদির জমানায় আজ দেশে তেরঙ্গা ওড়ানোও আইনভঙ্গ বলে গণ্য হচ্ছে! মোদিকে বলতে চাই, কাপুরুষের মতো পুলিশের পিছনে লুকনো বন্ধ করুন। দম থাকলে সরকারি ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জানিয়ে দিন যে এদেশে ভিন্নমত বা আন্দোলন চলবে না! আপনি না তেরঙ্গাকে সম্মান করেন, না সংবিধানকে। প্রধানমন্ত্রী পদের যোগ্যই নন নরেন্দ্র মোদি।”

একই সুর শোনা গেছে আর এক নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডের গলাতেও। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটিশ আমলেও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে পোরা হতো, আজ সিজেপি নেতারাও সেই একই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। তবে শত চেষ্টা করেও তাঁদের ভয় দেখানো যাবে না বলে হুংকার দিয়েছেন তিনি।

পালটা তোপ বিজেপির: অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। দলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নেতা দেবজিৎ সরকার বলেন, “জাতীয় পতাকা ওড়ানো অন্যায় নয়, কিন্তু জাতীয় পতাকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে আঘাত করার চেয়ে বড় অপরাধ কিছু হতে পারে না।”

যন্তরমন্তরের এই ঘটনা ও রাজনৈতিক বাদানুবাদ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *