কোটিপতি ব্যবসায়ীর রহস্যমৃত্যু! মৃত্যুর আগে ভাইরাল হওয়া ২ মিনিটের অডিও ঘিরে লখনউয়ে চরম চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের অভিজাত এলাকা অবধ গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে গিয়ে ২৮ বছর বয়সি তরুণ কোটিপতি ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনাটি ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে এক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেটে গেছে প্রায় পাঁচ দিন, কিন্তু লখনউ পুলিশের জালে এখনও ধরা পড়েননি মূল অভিযুক্ত। এই প্রেক্ষাপটে চাঞ্চল্যকর সিসিটিভি ফুটেজ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং সবশেষ প্রকাশ্যে আসা একটি ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপ মামলাটিকে এক সম্পূর্ণ নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও ক্লিপটিতে নিহত ব্যবসায়ী শিবা শর্মা এবং তাঁর লিভ-ইন পার্টনার তথা মডেল শ্রদ্ধা দুবের মধ্যে চলা এক উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও ভয়ংকর হুমকির শব্দ পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপটিতে স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে যে, শিবা শর্মা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শ্রদ্ধা দুবে এবং তিনি প্রচণ্ড হট্টগোল শুরু করেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে শ্রদ্ধাকে ‘সঞ্জয় স্যার’ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করে শিবা-কে সরাসরি হুমকি দিতে শোনা যায়। তিনি চরম ঔদ্ধত্যের সঙ্গে দাবি করেন যে, তিনি ওই ‘সঞ্জয় স্যার’-এর কাছে শিবার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তাঁকে এমন শিক্ষা দেবেন যা তিনি জীবনেও ভুলবেন না। শুধু তাই নয়, অডিওটিতে শ্রদ্ধাকে শিবা-কে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে সোজা জেলে পাঠানোর পর সেখানে জাঁকজমকপূর্ণ ‘জেলে পার্টি’ করার মতো অত্যন্ত ভয়ংকর ও মানসিক অবসাদগ্রস্ত মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই শিবার মা রঞ্জনা শর্মা শুরু থেকে দাবি করে আসছেন যে, প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে শ্রদ্ধা দুবে ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিনিয়ত তাঁর ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেল করত। এই ভাইরাল অডিও ক্লিপটি যেন মায়ের সেই অভিযোগকেই একশো শতাংশ সত্যি প্রমাণ করল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে লখনউ শহরের একাধিক হাই-প্রোফাইল ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তির গভীর যোগাযোগ রয়েছে। অডিওতে উঠে আসা সেই রহস্যময় ‘সঞ্জয় স্যার’ আসলে কে, তা নিয়ে এখন পুলিশ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিবা ও শ্রদ্ধার এর আগের কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে মৃত্যর আগে শিভাকে উদ্দেশ্য করে শ্রদ্ধাকে বলতে দেখা গিয়েছিল—”তোর জন্য আমার বুক থেকে বদদোয়া বের হচ্ছে, তুই আমার ব্যবহার করলি…” ইত্যাদি।
এদিকে, ঘটনার পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও লখনউ পুলিশের স্পেশাল টিম এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত মডেল শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি দুবে এবং তাদের চালককে গ্রেপ্তার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তদন্তের গতি বাড়াতে এবং জনমানসে চাপ সৃষ্টি করতে লখনউ কমিশনারেট পুলিশ পলাতক মূল অভিযুক্ত মডেল শ্রদ্ধা দুবেসহ তিনজনের প্রত্যেকের মাথার দাম ২৫,০০০ টাকা করে নগদ পুরস্কার ঘোষণা করেছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তদের খোঁজে বর্তমানে অন্তত ছয়টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং লখনউয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভাব্য গোপন আস্তানায় লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল চ্যাট এবং অডিওর মতো অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে থাকা সত্ত্বেও অপরাধী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলছে শিবার পরিবার ও স্থানীয় জনতা।