পুজোয় খাস কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ঘোষণা! শহরবাসীকে সুরক্ষা দিতে নামছে ৩১ হাজার বাহিনী

দেখতে দেখতে কড়া নাড়ছে শারদোৎসব। দুর্গাপুজোর আনন্দকে সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ করতে শহরের নিরাপত্তা বলয় আরও আঁটোসাঁটো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। পুজো চলাকালীন খাস কলকাতার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে একযোগে প্রায় ৩১ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং দুর্গোৎসবের বিশেষ গাইডম্যাপ উন্মোচন করেন। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই ম্যাপের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের পথ চলা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও পুজো মণ্ডপগুলিতে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শহরকে কার্যত একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা দুর্গে পরিণত করতে ৩১ হাজার কর্মীর এই বিশাল বাহিনীতে প্রায় ৬ হাজার সিভিক ভলিউন্টেয়ার ও হোমগার্ডের পাশাপাশি কনস্টেবল, সাব-ইনস্পেক্টর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারাও দিনরাত মাঠে থাকবেন। এছাড়া জনবহুল এলাকায় হঠাৎ কোনো দর্শনার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার্থে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্যের জন্য সর্বক্ষণ ‘১১২’ এবং ‘১০০’ নম্বর চালু থাকবে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করতে এ বছর এক লক্ষ বিশেষ ব্যারাজ বা রিস্টব্যান্ডের বন্দোবস্ত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পুজোয় দর্শনার্থীদের সঠিক গতিবিধি ও সুরক্ষা বজায় রাখতেই বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড ও ট্রাফিক রুট সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের উৎসবের দিনগুলি যেন সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় হয়, তার জন্য লালবাজারের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।