“কাউকে বাদ দেওয়া হবে না, ঢুকে দেখাক জিহাদিরা!”— বনগাঁর পুজোর মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরাট হুঙ্কার

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও ধোঁয়াশা দূর করতে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় দুর্গা পুজোর উদ্বোধনে এসে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের শংসাপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াকে এবার থেকে আরও সহজ করা হচ্ছে। এখন থেকে সরাসরি জেলাশাসকের (DM) দফতর থেকেই এই সিএএ শংসাপত্র মিলবে।

একই সঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন মানুষও যাতে নাগরিকত্বের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

মতুয়াদের আশ্বস্ত করে জোড়া বার্তা

বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার উদ্যোগে আয়োজিত গান্ধিপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজো উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সিএএ সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতার নিরসন ঘটাতে জেলাশাসকের দফতর এবার থেকে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

এলাকাবাসীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কথা দিয়ে গেলাম, মতুয়াদের কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। সবাইকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলে সিএএ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। পুজোর আমেজে মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি প্রতিশ্রুতিতে মতুয়াদের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া হুঙ্কার

বনগাঁ সীমান্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সেখানে দাঁড়িয়ে জাতীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। কড়া সুরে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে কোনও জিহাদিকে এ রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। রাজ্যে কোনওভাবেই ‘লাভ জিহাদ’ সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এসে কেউ অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধীদের নিশানা ও রাজনৈতিক কটাক্ষ

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও রাজ্যবিরোধী শক্তিগুলিকে নিশানা করতেও ছাড়েননি তিনি। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “আরশোলা, ছারপোকারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, আপনারা সতর্ক থাকবেন।” সেই সঙ্গে ‘আজাদি কাশ্মীর’ স্লোগানকারীদের প্রসঙ্গ টেনে ‘দিমাগি নকশাল’দের বিরুদ্ধেও আমজনতাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

বনগাঁর পুজো মণ্ডপ থেকে নাগরিকত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হাবড়ায় দেবদাস মণ্ডলের আয়োজিত ঐক্য সম্মেলনের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *