কমিটির নজর এড়িয়েই বিকিয়ে গেল কোটি টাকার সম্পত্তি? চিটফান্ড মামলায় বিচারপতি এস পি তালুকদার কমিটিকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

ভিভজিওর চিটফান্ড মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের কড়া বার্তা: ডুয়ার্সে কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনি বিক্রির অভিযোগে ক্ষুব্ধ আদালত
রাজ্যের অন্যতম আলোচিত বহুলচর্চিত ভিভজিওর (Vibgyor) চিটফান্ড কাণ্ডে এবার চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কমিটির নজরদারির আওতায় থাকা সত্ত্বেও ডুয়ার্সে কোম্পানির প্রায় ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনিভাবে বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। আমানতকারীদের বকেয়া টাকা ফেরানোর বদলে কীভাবে চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেল, তা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস পি তালুকদার কমিটির ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত অত্যন্ত কড়া ভাষায় পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করে জানান, আমজনতার কষ্টের উপার্জন ও রাজকোষের কোটি কোটি টাকা খরচ করে গঠিত এই কমিটি শেষ ১২ বছরে আশানুরূপ কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একদিকে যখন লক্ষ লক্ষ প্রতারিত আমানতকারী তাঁদের জমানো অর্থ ফেরতের আশায় চাতক পাখির মতো বসে রয়েছেন, ঠিক তখনই কমিটির আওতাধীন সম্পত্তি চিহ্নিতকরণ এবং সুরক্ষায় চরম গাফিলতির ছবি সামনে আসছে। বিশেষ করে, ডুয়ার্সে ভিভজিওর গ্রুপের প্রায় ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও কী করে বিক্রি হয়ে গেল এবং কমিটি কেন সময়মতো পদক্ষেপ করেনি, সেই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি।
হাইকোর্টের স্পষ্ট বার্তা—কোনো প্রভাবশালী বা নির্দিষ্ট আমানতকারীর সুবিধার জন্য আদালত বসেনি, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করাই মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে যাতে এই ধরনের সম্পত্তি কোনোভাবে হাতবদল বা বেআইনি হস্তান্তর না হতে পারে, সে বিষয়ে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজকোষের অর্থ যেন এভাবে নয়ছয় না হয়, তা নিশ্চিত করে কমিটিকে তাঁদের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর আটকে রয়েছে রাজ্যের হাজার হাজার প্রতারিত আমানতকারীর।