পুজোর মুখে রঙিন তিলোত্তমা! উড়ালপুলে চমকপ্রদ রঙের খেলা নাকি দুর্ঘটনার ফাঁদ? আসল সত্য স্পষ্ট করল কলকাতা পুলিশ

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সেজে উঠছে তিলোত্তমা কলকাতা। অন্যান্য বছরের মতো এবারও আলোর রোশনাই এবং আলপনায় শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সাজসজ্জার অঙ্গ হিসেবে কলকাতা পুরসভা এবং হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনারস (HRBC)-এর উদ্যোগে শহরের প্রধান প্রধান উড়ালপুল ও ব্রিজগুলিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে রঙের কাজ জোরকদমে চলছে। উড়ালপুলের রাস্তায় লাল, গেরুয়া, কমলা, নীল, গোলাপি—অর্থাৎ রামধনুর (VIBGYOR) নানা রঙের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্লাইওভার রাঙিয়ে তোলার এই ছবির সাথে সাথেই দানা বেঁধেছে নানা বিতর্ক। নেটিজেনদের একাংশের মতে, উড়ালপুলের এই ধরনের গাঢ় রং গাড়ি চালানোর সময় চালকদের চোখে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

কী বলছে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ?

উদ্বিগ্ন চালকদের আশ্বস্ত করে ট্রাফিক বিভাগের এক সার্জেন্ট জানান, এখন পর্যন্ত উড়ালপুলে রঙের কারণে যান চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটার খবর মেলেনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, উড়ালপুলে যে রং ব্যবহার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত বিশেষ ধরনের এবং চকচকে (গ্লসি) নয়। ফলে সূর্যের আলো বা রাতের রাস্তার আলো সেই রঙের ওপর পড়ে চালকদের চোখে প্রতিফলিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আপাতদৃষ্টিতে এই রঙের কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

যান চলাচল ও কাজের সময়সূচি:

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়িয়াহাট উড়ালপুলে রঙের কাজ চালাতে বিশেষ সময়সূচি মেনে চলা হচ্ছে। কাজের সুবিধার্থে সপ্তাহের অন্যান্য দিনে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ফ্লাইওভারের দুটি লেনই বন্ধ রেখে কাজ চলছে। অন্যদিকে, ছুটির দিনে সকালে সাময়িকভাবে একটি লেন বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চতুর্থীর আগেই গড়িয়াহাটের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের কাজও প্রায় শেষের পথে।

কোন কোন ব্রিজে চলছে কাজ?

নগরোন্নয়ন বিভাগের তদারকিতে কেবল গড়িয়াহাট বা চিংড়িঘাটায় থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। এর পর অরবিন্দ সেতু, ধনধান্যে সেতু, চেতলা ব্রিজ এবং ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন ক্রসিংয়ের কালভার্টগুলিতেও একে একে এই রঙের কাজ সম্পন্ন করা হবে। পুজোর মুখে রঙিন এবং নিরাপদ কলকাতার অভিজ্ঞতা পেতে প্রস্তুত তিলোত্তমাবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *