আজ থেকে ১৩০০ বছর পরের পৃথিবী ঘুরে এসেছেন তিনি! ভবিষ্যতের ভাইরাল হওয়া সেই চাঞ্চল্যকর দাবির আসল সত্য কী?

ভবিষ্যতের পৃথিবী ঠিক কেমন দেখতে হবে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। কিন্তু সেই কল্পনা যখন প্রযুক্তির কারসাজিতে এক নিখুঁত ফন্দি বা প্র্যাঙ্কে রূপ নেয়, তখন তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন এক চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে নেটপাড়ার। এক ব্যক্তি দাবি করেছেন যে তিনি আজ থেকে প্রায় ১৩০০ বছর পর অর্থাৎ ৩৩১১ সাল থেকে ‘সময় ভ্রমণ’ করে বর্তমান যুগে ফিরে এসেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দাবিকে সত্যি প্রমাণ করতে তিনি ভবিষ্যতের কিছু ছবিও প্রকাশ্যে এনেছিলেন।
কী দাবি করেছিলেন ওই ‘সময় পরিব্রাজক’?
ব্রিটেনের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের পরিচয় গোপন রাখা ওই ব্যক্তি দাবি করেন যে তিনি উন্নত কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সময়কে অতিক্রম করে অতীতে ফিরে এসেছেন। নিজের এই অদ্ভুত দাবির সপক্ষে তিনি তিনটি ছবিও শেয়ার করেন।
তার মধ্যে প্রথম ছবিটি ছিল সবচেয়ে বেশি নজরকাড়া। সেই ছবিতে দেখা যায়, কোনো কংক্রিটের মাটিতে নয়, বরং আস্ত একটি শহর যেন মেঘের ঠিক ওপরে বাতাসে ভেসে রয়েছে! ওই ব্যক্তির দাবি ছিল, সুদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর মানুষ মাটির বদলে মেঘের ওপর এভাবেই নিজেদের বসতি গড়ে তুলবে।
কীভাবে ফাঁস হলো ভুয়ার আসল সত্য?
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি। মুহূর্তের মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ সেই ছবি দেখে অবাক হয়ে যান। তবে ইন্টারনেটের তুখোড় ‘ডিজিটাল গোয়েন্দা’ বা নেটিজেনদের চোখ ফাঁকি দেওয়া অতটা সহজ নয়। খুব দ্রুতই ছবিগুলির সত্যতা যাচাই করতে শুরু করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
তদন্তে প্রকাশ্যে আসে যে, ওই ‘সময় পরিব্রাজক’-এর শেয়ার করা ছবিগুলি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ডিজিটাল কারসাজিতে তৈরি। বিশেষজ্ঞরা জানান, মেঘের ওপরে ভাসমান ওই বিখ্যাত শহরের ছবিটি আসলে একটি সাধারণ পাহাড়ি উপত্যকার আসল ছবিকে এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিকৃত করে তৈরি করা হয়েছিল। ছবিটির আলোকসজ্জা এবং গঠনশৈলী খুঁটিয়ে দেখেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সস্তা জনপ্রিয়তা পেতেই এটি একটি নিখুঁত ইন্টারনেট প্র্যাঙ্ক বা প্রচারমূলক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। ভবিষ্যতের আজব দুনিয়ার লোভ দেখিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।